kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মুখ মলিন ইলিশ জেলের

►১৯ জেলায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু ►প্রণোদনার ২০ কেজি চাল নিয়ে ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুখ মলিন ইলিশ জেলের

ফাইল ছবি

চাঁদপুরের হরিণাঘাটের আবুল গাজী। মেঘনার জল, জাল আর নৌকা ঘিরে এই জেলের জীবন সংসার। ইলিশ মাছ জালে আটকালেই তাঁর দিনটা হয়ে ওঠে সাতরঙা। গত কয়েক দিন ছোট-বড় মিলিয়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছিল তাঁর জালে। এতে আবুল গাজীর অবয়বে ছিল হাসির ফোয়ারা, কিন্তু এখন তাঁর মুখটাই মলিন। কারণ গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ বাঁচাতে নদীতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ সময় ইলিশ পরিবহন, বিক্রি ও মজুদও বন্ধ থাকবে। পদ্মা, মেঘনাসহ উপকূলীয় ১৯ জেলার নদ-নদীতে এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

ফলে আবুল গাজীর মতো সাময়িক বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ জেলে। এ সময়টাতে সরকারের তরফ থেকে প্রত্যেক বেকার জেলেকে দেওয়া হবে ২০ কেজি করে চাল। তবে যে খাদ্য প্রণোদনা দেওয়া হবে তা নিয়ে জেলেদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কারণ এই চাল জেলে পরিবারগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। তার ওপর এই চাল হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। প্রণোদনার চালের পরিমাণ নিয়েও জেলেদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।

হরিণাঘাটের জেলে আবুল গাজীর প্রশ্ন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলবে ২২ দিন আর চাল দেবে ২০ কেজি করে। পাঁচ সদস্যের আমার পরিবারের প্রতিদিনের হিসাব করলে এক কেজিরও কম চাল দিয়ে কিভাবে চলা সম্ভব?’ ঠিক একই প্রশ্ন করেন আরো কয়েকজন জেলে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি প্রণোদনায় তাঁদের কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কারণ চালের সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরো অনেক কিছুর প্রয়োজন। তা সংগ্রহ করতেও টাকা লাগে। এত দিন মাছ বিক্রির পর ঋণের কিস্তি, দাদনের দেনা, সংসার খরচের পর হাতে কিছুই থাকত না। আগামী ২২ দিন তাঁদের কিভাবে চলবে, তা মাথায় আসছে না।

এদিকে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের প্রথম দিন গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, যারা মা ইলিশ সংরক্ষণে সহায়তা করবে না তাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। এ সময় মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই এক হাজার ৯৩৮ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও এখনো চাল পায়নি তারা। এ নিয়ে জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদী এলাকার হাট-বাজারে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সেমিনার করা হয়েছে।

ঝালকাঠিতে গতকাল সকাল থেকে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ পুলিশের সহযোগিতায় নদীতে অভিযান শুরু করেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা জানান, কর্মসূচি সফল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ট্রলার-স্পিডবোট নিয়ে নদীতে টহল দেওয়া হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা না মেনে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি সাগর মোহনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগে তিন জেলেকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রির দায়ে গতকাল সকালে রাজবাড়ীতে নারায়ণ হলদার নামের এক বিক্রেতাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে ইলিশ ধরার দায়ে ছয় জেলেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইলিশ মাছ ধরে পরিবহন করায় ছয়জনকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা