kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মান যাচাইয়ে প্রগতির গাড়ি যাচ্ছে জাপানে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম    

১৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মান যাচাইয়ে প্রগতির গাড়ি যাচ্ছে জাপানে

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পিআইএল) কারখানায় সংযোজিত এল-২০০ মডেলের তিনটি ডাবল কেবিন পিকআপ বাণিজ্যিক উৎপাদনের মান যাচাইয়ের জন্য জাপানে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত মিৎসুবিশি মোটরসের কারখানায় পাঠানো হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় অবস্থিত কারখানায় শিপিং এজেন্টকে পিকআপ তিনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মিৎসুবিশির বিশেষজ্ঞদল মান যাচাই শেষে অনুমোদন দিলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বিপুল চাহিদার ডাবল কেবিন পিকআপের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রগতির কর্মকর্তারা। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পারস্পরিক যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ না হলে গত মার্চ মাসেই বাড়বকুণ্ডে প্রগতির কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের মান যাচাইয়ের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রগতি সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী মিত্সুবিশি মোটরসের বিশেষজ্ঞরা গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে প্রগতির প্রকৌশলীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং ১০ নভেম্বর থেকে মিৎসুবিশি মোটরসের আরেকটি দল প্রগতির বাড়বকুণ্ডের কারখানায় ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলক সংযোজনের প্রশিক্ষণ দেয়। চলতি বছরের ২৫ মার্চ বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মিত্সুবিশির বিশেষজ্ঞদল ফিরে যায়। ফলে ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের গতিতে যে ছন্দঃপতন হয়েছে, এরপর তা বারবার হোঁচট খেয়েছে। প্রগতি চেয়েছিল ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে এই মান যাচাইয়ের আয়োজন করতে। কিন্তু মিৎসুবিশি কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতির মান যাচাইয়ে অনীহা প্রকাশ করে। কিন্তু শিপিংয়ের সমস্যার কারণে প্রায় দুই মাস পরে শেষ পর্যন্ত এ সপ্তাহে জাপানের উদ্দেশে জাহাজে চেপেছে প্রগতির কারখানায় সংযোজিত গাড়ি।

এ প্রসঙ্গে প্রগতির উপপ্রধান প্রকৌশলী (কারখানা) কায়কোবাদ আল মামুন বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী স্থবিরতার ফলে আমরা কিছুটা পিছিয়ে গেছি। না হলে সেই মার্চ মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। তবে দেরিতে হলেও আমাদের প্রকৌশলীদের সংযোজিত তিনটি গাড়ি জাপানে মিত্সুবিশির কারখানায় পাঠানো হয়েছে।’

ইতিমধ্যে গত মাসের শেষ দিকে ১০০ ইউনিট বিযুক্ত (সিকেডি) ডাবল কেবিন পিকআপের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে প্রগতি। পিআইএল সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ডাবল কেবিন পিকআপের চাহিদা পাঁচ থেকে ছয় হাজার। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে এই গাড়িগুলোর চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা বেশি থাকলেও দেশে সংযোজিত না হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে দরপত্রের মাধ্যমে গাড়ি কেনা হয়ে থাকে। এর খুব ছোট অংশই জোটে প্রগতির ভাগ্যে। কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রগতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা তা শুধু প্রগতিতে সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে প্রগতি ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে স্বাভাবিকভাবে দেশের চাহিদার বড় অংশই প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকেই মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করে পিআইএল কর্তৃপক্ষ।

মিত্সুবিশি এল-২০০ মডেলের ডাবন কেবিন পিকআপগুলোর ইঞ্জিন প্রগতির বর্তমানে সংযোজিত পাজেরো কিউএক্স মডেলের জিপের মতোই। দুটি গাড়িরই ইঞ্জিন দুই হাজার ৪৭৭ সিসির। এ কারণে এল-২০০ মডেলের ডাবন কেবিন পিকআপ সংযোজন করতে প্রগতির বর্তমানে তেমন বাড়তি খরচ লাগছে না। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম বছরে উৎপাদন করতে হবে এক হাজার ইউনিট এল-২০০ পিকআপ আর দ্বিতীয় বছরে দেড় হাজার ইউনিট।

ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের সুবিধা বর্ণনা করতে গিয়ে পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিৎসুবিশি এল-২০০ মডেলের ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়িটি সংযোজন হলে বর্তমান অসম প্রতিযোগিতার বাজারে প্রগতিকে আর ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বর্তমানে এই মডেলের সিবিইউ গাড়ির বাজারমূল্য ৪৮ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রগতি সংযোজন করলে এই গাড়ির দাম ৪০ লাখের মধ্যে চলে আসবে। এতে সরকারেরও অর্থ সাশ্রয় হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা