kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বড়দের পোয়াবারো, ছোটরা পাচ্ছে না প্রণোদনার ঋণ

সজীব হোম রায়    

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড়দের পোয়াবারো, ছোটরা পাচ্ছে না প্রণোদনার ঋণ

দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, এর সুফল পাচ্ছে না কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। এখনো ব্যাংকগুলো বেশির ভাগ ঋণ বিতরণ করেনি এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে। কৃষি খাতকে সুরক্ষা দিতে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তার বাস্তবায়নচিত্র আরো করুণ। ৫০০ কোটি টাকাও বিতরণ করেনি কোনো ব্যাংক। আর নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের যে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে তাতে বিতরণ হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। ছোট এই তিন খাত প্রণোদনা প্যাকেজের উপকার পাচ্ছে না। তবে ঠিক এর বিরীত চিত্র বড়দের বেলায়। বড়দের প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণই বিতরণ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো প্রতিবেদনে প্রণোদনা প্যাকেজের এমন চিত্র উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় গ্রাহকরা নিয়ম মেনে কাগজপত্র দাখিল করছেন, তাই ঋণ বেশি পাচ্ছেন। ছোটদের বেলায় কাগজপত্রের ক্ষেত্রে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি। সময়ে সময়ে প্রয়োজনে আলোচনার প্রেক্ষিতে আরো ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে ন্যূনতম কিছু কাগজপত্র অবশ্যই দাখিল করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছোটরা যাতে বেশি ঋণ পায় সে জন্য আমরা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। বিষয়টি আমরা তদারকি করছি। আশা করছি আগামীতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ আরো বাড়বে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো বড়দের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। সে তুলনায় ছোট উদ্যোক্তারা প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা নিতে পারছেন না। ব্যাংকগুলো বলছে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ ছোট উদ্যোক্তারা ঋণের বিপরীতে ঠিকমতো কাগজ জমা দিতে পারছেন না। তাই ঋণ বিতরণে এ দৈন্যদশা। তাই ছোটদের প্যাকেজগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সিএসএমই খাতসহ ক্ষুদ্র খাতগুলোতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে সরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিতরণ হার ২০ শতাংশ : করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে এসএমই খাতের রাজস্ব ৬৬ শতাংশ কমে গেছে। এ বিবেচনায় দেশে মোট প্রণোদনার শতকরা ২২ ভাগ এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাত সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ব্যাংকগুলো কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) প্যাকেজের মাত্র প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বিতরণ করেছে। প্রায় ১০ হাজারটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এই অর্থ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।

কৃষি পুনরর্থায়ন স্কিমে বঞ্চিত কৃষকরা : দেশের কৃষি খাতকে বাঁচাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ১৮ হাজার কৃষক/কৃষি ফার্মের অনুকূলে মাত্র ৪৯৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ধান, গমসহ সব ধরনের দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল (আলু, কচু) জাতীয় ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে মাত্র এ পরিমাণ টাকা পেয়েছেন কৃষকরা।

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ পেয়েছেন সামান্য : নিম্ন আয়ের পেশাজীবী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে তিন হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। ৩৬টি মাইক্রো ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউশনের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ৯ হাজার ৮৮২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাত্র ২৭৬ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন।

উল্টো চিত্র বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে : দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ঘোষিত হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ। এরই মধ্যে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ঋণই বিতরণ হয়েছে। এ টাকার মধ্যে আবার বৃহৎ শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ জুলাই মাসে নিয়েছেন দুই হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। আর জুন মাসে নিয়েছেন দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা