kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রপ্তানিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ একক পণ্য সবজি

রোকন মাহমুদ    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রপ্তানিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ একক পণ্য সবজি

করোনার মধ্যে বেশ কয়েক মাস শাকসবজি রপ্তানি বন্ধ ছিল। এর পরও বছর শেষে ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এই খাতে। এই প্রবৃদ্ধি দেশের সব খাতের রপ্তানির মধ্যে একক পণ্য হিসেবে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা রয়েছে। প্রবাসে অবস্থিত লাখো বাংলাদেশি নিয়মিত দেশি এসব পণ্য চান। আবার বিদেশিরাও এখানকার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের প্রতি আগ্রহী। তাই এই খাতে প্রতিবছরই বড় প্রবৃদ্ধি সম্ভব। এ জন্য এই খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১৩ কোটি ডলারের শাকসবজি রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। বিপরীতে শাকসবজি রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে এই খাতে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের হিসাবেও। আগের বছর সবজি রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ডলারের। সে হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৬৪.৫৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুধু কৃষি খাতের মধ্যেই সর্বোচ্চ তা নয়, বরং পুরো রপ্তানি খাতের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

ইপিবির তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১২ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দেশ থেকে ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবজি ছাড়াও ফলমূল রপ্তানি হয়েছে চার লাখ ৯০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৮ শতাংশ বেশি। শুকনো খাবার রপ্তানি হয়েছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম। তিন কোটি ৩২ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের মসলা রপ্তানি হয়েছে, এই খাতেও কমেছে ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া চা রপ্তানি হয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের, এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ।

রপ্তানিকারক সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহ করে সেগুলো একসঙ্গে করা হয়। এগুলোর কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেটের (স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা সনদ) জন্য আবেদন করে রাজধানীর শ্যামপুর ওয়্যারহাউসে নিয়ে আসা হয়। কৃষি সম্প্রসারণের সংগনিরোধ বিভাগে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শেষে প্যাকিং করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। অনেক সময় বিমানবন্দরের ওয়্যারহাউসেও পরীক্ষা করা হয়। এরপর আগে থেকে বুকিং দেওয়া যাত্রীবাহী বিমানের কার্গো হোলে তুলে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। করোনার কারণে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সীমিত হওয়ায় শাকসবজি রপ্তানি এখন কিছুটা কম। এ ছাড়া বন্যার কারণে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ঘাটতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশেই দাম বেশি। ফলে রপ্তানি প্রায় থমকে রয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পটোল, বেগুন, বরবটি, চিচিঙ্গা, পান ইত্যাদি পণ্যই বেশি রপ্তানি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুট ভেজিটেবল অ্যান্ড এলাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ও রাজধানী এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার গোবিন্দ চন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে রপ্তানি আরো অনেক বেশি হতো। আমাদের মূলত গৃষ্মকালীন সবজিই বেশি রপ্তানি হয়। বেশি হয় জুলাই থেকে আগস্টে। এবার এই সময়টাতেই করোনা ও বন্যায় রপ্তানি একেবারেই কমে গেছে। তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই খাতে রপ্তানির বাজার আরো বাড়াতে চাইলে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার দরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে কোয়ারেন্টিন সর্টিফিকেট দেয়, সেটার ওপর অনেক দেশেরই আস্থা নেই।’

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সবজি রপ্তানি হয়েছিল ৬৫ লাখ ডলার, আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৭২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এতে কভিডের কারণে তৈরি হওয়া ঘাটতিও কমে এসেছে। জুলাই মাসে রপ্তানি ঘাটতি ছিল ২২ শতাংশ, আগস্টে কমে হয়েছে ৯ শতাংশ। চলতি বছর সবজি রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ডলার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগ শুধু সবজিতে রোগবালাই আছে কি না, এটি যাচাই করে। এর ভিত্তিতে কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যে মান পরীক্ষার সনদ চাওয়া হয়, তার ব্যবস্থা এখনো হয়নি দেশে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (আমদানি রপ্তানি ও পরীক্ষাগার) মো. ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব ধরনের সবজিই দেশ থেকে রপ্তানি হয়। আমাদের আলুর চাহিদাই রয়েছে ৪০ থেকে ৪৩ হাজার টনের।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে রপ্তানির বাজার বাড়াতে হলে উৎপাদনও বাড়াতে হবে। উৎপাদন কম হলে দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এতে রপ্তানিকারকরা লোকসানের ভয়ে পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখে।’

জানা যায়, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে সহযোগিতা করতে একটি বিশেষ ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষাগারে পণ্যের মান পরীক্ষা করে রপ্তানি সনদ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়াতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা