kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অসাধু পেঁয়াজ আমদানিকারকের খোঁজে এনবিআর

ফারজানা লাবনী   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসাধু পেঁয়াজ আমদানিকারকের খোঁজে এনবিআর

কম দামে পেঁয়াজ আমদানি করে কোনো ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রি করলে তাঁকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) তলব করা হবে। প্রয়োজনে বাজার নজরদারির দায়িত্বে থাকা সরকারের অন্যান্য সংস্থাকেও অসাধু আমদানিকারকদের সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করবে এনবিআর।

সম্প্রতি পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১০০ টাকা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে এনবিআর পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত বছরও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সে সময়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছেন এমন ৪৭ জন আমদানিকারককে শুল্ক গোয়েন্দার দপ্তরে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। গত বছর পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার জন্য এনবিআরের তদন্তে কিছু অসাধু আমদানিকারক এবং পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা দায়ী ছিলেন বলে নিশ্চিত হয়।

এবার এনবিআরের একাধিক গোয়েন্দা শাখা পেঁয়াজ আমদানির তথ্য সংগ্রহ করে বাজারে খোঁজ নেবে। পেঁয়াজ আমদানি ও বিক্রির তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেলে অর্থাৎ কম দামে আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করলে ওই আমদানিকারককে এনবিআরে তলব করা হবে। কী পরিমাণ পেঁয়াজ, কত দামে আমদানি করেছে, আমদানীকৃত পেঁয়াজ ওই ব্যবসায়ী কোনো আড়তদার, খুচরা বা পাইকারি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন তার সব তথ্য তদন্তে জানতে চাওয়া হবে। একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে আড়তদার, পাইকারি বিক্রেতারা বা এজেন্টরা মজুদ রেখে বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না। প্রয়োজনে এনবিআরে তাঁদেরও তলব করা হবে।

ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজ কী দামে সংগ্রহ করা হয়েছে আর কী দামে বিক্রি করেছে তার তথ্য ভ্যাট গোয়েন্দা সংগ্রহ করে বড় ধরনের গরমিল পেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ভ্যাট গোয়েন্দারা পণ্য কেনাবেচার তথ্য সংগ্রহ করার আইনি ক্ষমতা রাখে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকার সময়ে গত বছর পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। কিছু অসাধু আমদানিকারক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে ছিল। এনবিআর থেকে সে সময়ে আমদানিকারকদের তলব করা হয়েছিল। এবারে আগেভাগে এনবিআর থেকে নজরদারি করা হলে বাজারে অসাধু আমদানিকারকরা দাম বাড়ানো থেকে দূরে থাকবে। এতে জনভোগান্তি কমবে।’ 

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমাতে এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে। শুল্ক কমানো হলে আমদানীকৃত পেঁয়াজ দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কম দামে বিক্রি হতে পারে। এতে দেশের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে না। এই আশঙ্কায় এনবিআর শুল্ক কমানোর পথে হাঁটেনি বলে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা