kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাড়ে ২১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি মানবসম্পদ সেবার প্রতিষ্ঠানের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাড়ে ২১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি মানবসম্পদ সেবার প্রতিষ্ঠানের

ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযানে রাজধানীর বারিধারার মানবসম্পদ সেবার একটি প্রতিষ্ঠানে ২১ দশমিক ৫০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ভ‍্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চত করেছেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রন্টডেস্ক বাংলাদেশ লি. বাড়ি ৩৬৩, রোড ৫ পূর্ব, বারিধারা ডিওএইচএস। প্রতিষ্ঠানটি দেশের খ্যাতনামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ও সাধারণ মানবসম্পদ সেবা বিক্রয় করে থাকে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই সেবা বিক্রয় করে আসছে।

জানা যায, ভ্যাট ফাঁকির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল ১০ আগস্ট বারিধারার অফিসে অভিযান চালায়। এতে ভ্যাট আইনের ৮৩ ধারা প্রয়োগে তাদের প্রাঙ্গনের নিজস্ব কম্পিউটার ও সংরক্ষিত বাণিজ্যিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এসব তথ্যাদি যাচাই করে দেখা যায় ফ্রন্টডেস্ক প্রকৃত সেবা বিক্রয় মূল্য গোপন করে নামমাত্র সেবা মূল্য তাদের ভ্যাট রিটার্নে প্রদর্শন করে বিপুল প্রমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে জুলাই ২০২০ পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৮৪ কোটি টাকার সেবা বিক্রয় দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে তারা ভ্যাট দিয়েছে ২ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু জব্দ করা কাগজপত্র অনুযায়ী ফ্রন্টডেস্ক প্রকৃত সেবা বিক্রয় করেছে ১২৯ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা।এই বিক্রয়ের উপর ভ্যাট দেয়ার কথা ১৯ দশমিক ৪৫ কোটি টাকা।

মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠানটি এই পাঁচ বছরে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ১৫ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা। ভ্যাট আইন অনুসারে যথাসময়ে ভ্যাট না দেওয়ায় এই ফাঁকির উপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ২১ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা আদায়যোগ্য।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর আজ ফ্রন্টডেস্কের বিরুদ্ধে ২১ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা ভ্যাট রাজস্ব ফাঁকির মামলা করেছে। ভ্যাট ফাঁকির দায়ে ন্যায় নির্ণয়নের মাধ্যমে এই রাজস্বের অতিরিক্ত সমপরিমাণ পরিমাণে ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপ হতে পারে।

ফ্রন্টডেস্ক ভ্যাট আইনের সেবার কোড ০৭২.০০ এর আওতায় ‘মানবসম্পদ সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনা’ প্রতিষ্ঠান। এই আইন অনুযায়ী সেবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্তির উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে দেখা যায়, দেশের নামিদামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই মানবসম্পদ সেবার গ্রাহক। এদের মধ্যে রয়েছে লাফার্জ হোলসিম, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লি, মাইক্রো বাংলাদেশ লি, ফিনটেক সলিউশন লি, বার্জার পেইন্টস লি, নোভার্টিস বাংলাদেশ লি, পিঅ্যান্ডজি বাংলাদেশ লি, অপসোনিন ফার্মা লি, রবি এক্সিয়াটা লি, জুটন বাংলাদেশ লি, এপিএম গ্লোবাল লজিস্টিক লি, এমএনএস বাংলাদেশ।

ফ্রন্টডেস্ক প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাভুক্ত হওয়ায় ভ্যাট ফাঁকির টাকা আদায় এবং ভ্যাট ফাঁকির অপরাধের ন্যায় নির্ণয়নের জন্য ঢাকা উত্তর কমিশনারেটে প্রেরণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা