kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মেলার সেবা মিলবে কর অঞ্চলে

ফারজানা লাবনী    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেলার সেবা মিলবে কর অঞ্চলে

আগামী দুই মাস করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে চলতি করবর্ষে আয়কর মেলার আয়োজন করা হবে না। করদাতাদের সুবিধায় মেলার বিকল্প হিসেবে প্রত্যেক কর অঞ্চলের দাপ্তরিক কার্যালয়ে মেলার মতো সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া করোনাকালীন আর্থিক সংকটের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনলাইনে রিটার্ন জমাদানকারী নতুন করদাতাদের জন্য এবার রেয়াত দেওয়া হবে। পুরনো রিটার্ন ফরমের সঙ্গে কম সম্পদের মালিক নতুন করদাতারা অনলাইনে এক পাতার সহজ ফরমে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। চলতি করবর্ষে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। 

নতুন-পুরনো যেকোনো করদাতা অনলাইনে ঘরে বসেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। দাখিলের পর রিটার্ন পরিশোধের সনদ অনলাইনেই আসবে। রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকলে অফিস চলাকালে (০২) ৫৫৬৬৭০৭০ নম্বরে ফোন করে করদাতা জেনে নিতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকে করদাতাকে নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রত্যেক করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ঠিকানা http://www.etaxnbr.gov.bd. করদাতা যদি আগের কোনো কর বছরের জন্য ম্যানুয়ালি বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন তবে তিনি এবার দেওয়ায় বিশেষ রেয়াত পাবেন না।

এনবিআর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ই-পেমেন্টে কর প্রদান, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিচ্ছি। আশা করছি সকলে সঠিক হিসাবে রিটার্ন জমা দেবেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ রিটার্ন জমা দিলে তা তথ্য গোপন এবং কর ফাঁকির অপরাধে রাজস্ব আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবার আয়কর মেলা হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক কর অঞ্চল নিজস্ব অফিসেই আয়কর মেলার মতো সেবা প্রদান করবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে কর অঞ্চলগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।’

সম্প্রতি এনবিআরের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন কর অঞ্চলে চিঠি পাঠিয়ে আয়কর রিটার্ন প্রদানে করদাতাদের উৎসাহিত করতে প্রচরণামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতাদের সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেলার মতো আন্তরিকভাবে সহযোগিতা না করে ভোগান্তিতে ফেললে ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কর অঞ্চল থেকে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, চলতি করবর্ষের অগ্রিম আয়কর ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জরিমানা ছাড়া দাখিল করতে পারবে।

প্রচলিত আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি করবর্ষের শুরু থেকেই অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরিমানা ছাড়া ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। করদাতা যে কর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সে কর অঞ্চলের উপকরকমিশনারের অনুমতি নিয়ে এই সময়ের পরেও অর্থাৎ করবর্ষের শেষ সময় ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে অনুমতি ছাড়া নিয়মিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে জরিমানা গুনতে হবে। 

করযোগ্য আয় না থাকলেও ১৮ বছর হলে যে কেউ রিটার্ন দাখিল করতে পারবে। বর্তমান আয়কর আইনে বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ভাতা বাদ দিয়ে তিন লাখ পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের কোনো কর দিতে হবে না। অন্যদিকে মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের আয়করসীমা বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে এই সীমার বাইরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, চার লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ও পাঁচ লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

করদাতা বেতন প্রাপ্ত হলে আয়কর বিবরণীর সঙ্গে বেতন বিবরণী জমা দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব থাকলে বা ব্যাংক সুদ থেকে আয় থাকলে ব্যাংক বিবরণী বা ব্যাংক সার্টিফিকেট দিতে হবে। কোনো করদাতা বিনিয়োগ ভাতা দাবি করলে এবং জীবন বীমা পলিসি গ্রহণ করলে তার পক্ষে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে প্রিমিয়াম পরিশোধের প্রমাণ দিতে হবে। বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা ভাড়ার রসিদের কপি, ভাড়া পাওয়ার বিবরণ এবং প্রাপ্ত বাড়িভাড়া জমাসংশিষ্ট ব্যাংক হিসাব বিবরণী রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

এনবিআরের সব আয়কর অফিসে রিটার্ন ফরম পাওয়া যাবে। এ ছাড়া এনবিআর ওয়েবসাইট থেকেও আয়কর রিটার্ন ফরম ডাউনলোড করা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা