kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

এখনই কমছে না সবজির দাম

রোকন মাহমুদ   

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০৯:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখনই কমছে না সবজির দাম

ফাইল ফটো

এবার রোজায়ও প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা দরে কিনতে পেরেছিলেন ভোক্তারা। রোজার পর মাস দেড়েক দাম কমে ৫০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এরপরই দাম বাড়তে থাকে। ঢাকার বাজারে গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা দরে। কিছু বাজারে ভালো মানের বেগুনের দর কেজি ৯০ টাকা হেঁকেছেন বিক্রেতারা। ৫০-৬০ টাকা কেজির কাঁচামরিচ এখনো কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। শুধু বেগুন আর মরিচ নয়, পটোল, কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজির দরই এখন কেজিপ্রতি ৬০ টাকা বা এর ওপরে।

গ্রীষ্ম-বর্ষায় সবজির উৎপাদন কম হয়, দামও বেশি থাকে। এটা স্বাভাবিক প্রবণতা। তবে এবার করোনার কারণে গ্রীষ্মে সবজির দাম তলানিতে নামলেও বর্ষায় চিত্র একেবারে ভিন্ন। স্বাভাবিক বাড়তি দরের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। তাও দীর্ঘসময় ধরে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়েনি, দামও কমেনি। যাঁরা বাজারে গিয়ে ব্যাগভর্তি ঝিঙে, চিচিঙ্গা কেনার বদলে আলু কিনে ফিরতে চেয়েছিলেন, তাঁরাও হতাশ। বাজারে এখন আলুর দামও বেশি, প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা।

এই চড়া দর কমবে কবে? বিক্রেতা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা বলছেন, কেজিপ্রতি ৪০ টাকার কাছাকাছি দরে সবজি পেতে অপেক্ষা করতে হবে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত। তখন শীতের আগাম সবজি বেশি পরিমাণে বাজারে আসতে শুরু করবে। অবশ্য এখনকার দরের চেয়ে কিছুটা কম দরে সবজি পাওয়া যাবে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে। ওই সময় বিভিন্ন ধরনের শীতের আগাম শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে। এরই মধ্যে আবাদ শুরু হয়েছে। এবার আবাদের হারও আগের চেয়ে বেশি।

ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক (বগুড়া অঞ্চল) কৃষিবিদ জি এম এ গফুর গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণত ১৫ অক্টোবর থেকে শীত মৌসুম শুরু হয় বলে আমরা ধরে নিই। তবে অনেক সবজিই এখন সারা বছর আবাদ হয়। এটা শেষ হলে আরেকটা শুরু হয়।’ তিনি বলছিলেন, বগুড়ায় এরই মধ্যে শীতের আগাম সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলে শীত মৌসুমে মোট ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ২৬৪ হেক্টর জমিতে সিমা মুলা, লাউ, কপি ইত্যাদি এরই মধ্যে আবাদ করা হয়েছে। এসব সবজি আগামী দেড় মাসের মধ্যে বাজারে আসবে। এ ছাড়া চার হাজার ৭০২ হেক্টর জমির মরিচ তোলা হয়ে গেছে। সেসব জমিতে আবার আবাদ শুরু হয়েছে। লালশাক, মুলাশাক, পালংশাক ইত্যাদি দ্রুত বর্ধনশীল শাকের সরবরাহ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাড়বে বলে আশা করছি।

গতকাল ঢাকার কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০, গোল বেগুন ৭০-৮০, টমেটো ১২০, বরবটি ৭০, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স ৬০, পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির সঙ্গে শাকের দামও চড়া। এক আঁটি শাক কিনতে লাগছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। শীতের কিছু সবজি এখনই বাজারে মিলছে। তবে দাম চড়া।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা