kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

ভ্যাট, ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে সমস্যায় পড়ে স্টার্টআপ

শরিফ রনি    

১২ আগস্ট, ২০২০ ১৪:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভ্যাট, ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে সমস্যায় পড়ে স্টার্টআপ

তৌফিক একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তরুণ এই উদ্যোক্তা দেশের জন্য নতুন কিছু করা নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে তৌফিক এবং অন্যরা পড়েছে নতুন এক সমস্যায়। সেটা হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনা। সাধারণত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাভ-ক্ষতির হিসাব নিকাশের জন্য এমন কাউকে বসিয়ে দেয়া হয় যার কোনো অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানের জ্ঞান নেই। যার পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট, ট্যাক্সের হিসাব রাখা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানের সঠিক চিত্রও তুলে ধরা সম্ভব হয় না। ফলে একটি চমক ছড়ানো আইডিয়া ক্রমশ মলিন হতে শুরু করে।

কথায় কথায় তৌফিক জানাল, ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়া, বছর শেষে অডিট করিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন দেয়া এবং দৈনন্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়। এজন্য অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পক্ষে উচ্চ বেতনে দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগ দেয়া প্রায় সময়ই সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে যদি এন্ট্রিলেভেল অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো তাদের সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এন্ট্রিলেভেলে কাজ করার মতো সেরকম প্রশিক্ষিত জনবল এদেশে নেই।

বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অন অবজারভেশন স্ট্যান্ডার্ড ২০১৪-তে বলা হয়, বাংলাদেশে করপোরেট গভার্নেন্স নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। এখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে পারিবারিক পর্যায়ে। ফলে করপোরেট গভার্নেন্স সমস্যা থেকেই যায়। এক্ষেত্রেও টেকনিশিয়ান লেভেলের দক্ষ জনবল খুবই প্রয়োজন।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দেশের করপোরেটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতা দূর করতে শুরু থেকেই দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। হিসাবে নয়-ছয় হলে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন এগুতে পারে না, তেমনি করপোরেট সেক্টরও পিছিয়ে পড়ে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রয়োজনীতায় অনুভব করছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

সম্প্রতি শিক্ষা বিষয়ক এক অনলাইন অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা কম্পিউটার অপারেটর রাখছি, অফিস সহকারি রাখছি, কিন্তু যেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা সেটা নিয়ে সেখানে কোনো বিধান নাই। এজন্য আমাদের দরকার প্রত্যেক স্কুলে অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট, যারা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। 

একই অনুষ্ঠানে সরকারের এটুআই – আইসিটি এবং ইউএনডিপির পলিসি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে বেকারত্বের হার ৪ শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু গ্র্যাজুয়েট বেকারত্বের হার ৩৯ শতাংশ, যা প্রায় দশ গুণ। চাকরিদাতারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত না। আমাদেরকে তাই শিক্ষাপ্রদান ও শিক্ষাগ্রহণ নিয়ে ভাবতে হবে। 

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, এদেশে বেকারত্বের সমস্যা যেমন আছে তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমস্যাও আছে। যদি স্টার্টআপ পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ানদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করা যায় তাহলে স্টার্টআপগুলো যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি দেশে প্রচুর বেকার তরুণদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা