kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

সময় বাড়ানোয় বেচাকেনা বাড়ছে বিপণিবিতানে

সজীব আহমেদ    

৭ আগস্ট, ২০২০ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সময় বাড়ানোয় বেচাকেনা বাড়ছে বিপণিবিতানে

করোনাভাইরাসের ফলে মন্দায় থাকা মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে কিছুটা গতি ফিরেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে চলার প্রস্তুতি শুরু হলো এই ঈদ উৎসব থেকে, যার পথ ধরে আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। গত মঙ্গলবার থেকে হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলার বিধান থাকলেও এখন তা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে। গত সোমবার এ বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। বিক্রিও ভালো হয়। এখন দোকান খোলার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ায় সুবিধাটা আরো বেড়েছে। আগে বিক্রির জন্য কম সময় পাওয়া যেত। এখন সময় বাড়ানোয় এর সুফল পাওয়া যাবে। দিন দিন বেচাকেনা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে সরকার। এই নির্দেশনা মেনেই দোকান খোলা রাখার কথা। রাজধানীতে দোকানপাট, শপিং মল ও কাঁচাবাজারগুলো খোলার শুরুর দিকে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানার তোড়জোড় ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তা আর মানা হচ্ছে না। সরকার বেচাকেনা বিকেল ৪টা থেকে ধাপে ধাপে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিলেও তেমন সুফল আসেনি। এখনো অনেক স্থানে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। তাদের বেশির ভাগই মাস্ক পর্যন্ত পরে না। কিছু ক্রেতা মাস্ক পরলেও তার মধ্যে অনেকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে না। কিছু শপিং মলে জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউ।

এদিকে গতকাল বুধবার সকালে জোয়ারসাহারা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব একদমই মানা হচ্ছে না। বাজার স্বাভাবিক সময়ের মতোই জমজমাট। মানুষ জটলা বেঁধে জিনিস কিনছে। বাজারের প্রতিটি দোকানেই ক্রেতা আছে। কোথাও কম, কোথাও বেশি। বাজারে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতো মানুষের চলাফেরা ও ভিড় করে কেনাবেচা চলছে।

ঈদের ছুটির শেষে গতকাল খুলেছে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলসহ বেশ কয়েকটি শপিং মল। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের আইরো পোশাকের দোকানের ম্যানেজার মামুন আহমেদ তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই খোলা রাখা হয়েছে। এখন সময় বাড়ানোয় এ সুবিধা আরো বেড়েছে। বসুন্ধরা সিটি গত ঈদুল ফিতরে বন্ধ ছিল। এরপর খোলা হলেও বেচাকেনা তেমন ছিল না। কিন্তু ঈদুল আজহায় বেচাকেনা খুব ভালো হয়েছে। সন্ধ্যার পরেই আমাদের বেচাকেনা বাড়ে। সকাল ১০টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হলে বেচাকেনা আরো বাড়বে।’

এ শপিং মলে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড লুবনানের ম্যানেজার মীর মহসিন আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা ভালোই ছিল। এখন বেচাকেনার সময় আরো এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই ভালো হয়েছে। দিন দিন বেচাকেনা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’

দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনার কারণে নিত্যপণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। করোনার কারণে বন্ধ ছিল বৈশাখের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কিন্তু গত মে মাসে ঈদুল ফিতরে বেশির ভাগ বিপণিবিতানই বন্ধ ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা