kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৯ জুলাই, ২০২০ ১৫:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার মূল কাজ হবে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এতে ব্যাপক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নতুন এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, নতুন মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো চলমান করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং সরকার কতৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা।

নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের প্রবদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫.৬ শতাংশ। নিট  বৈদেশিক সম্পদের প্রবদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫.৮ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের তুলনায় অনেকটা  কম।

এ বিষয়ে মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূলত উচ্চতর ভিত্তির প্রভাবে চলতি অর্থবছরের জন্য  নির্ধারিত নীট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছে। তবে কভিড-১৯ এর  প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ গতি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের  মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশে অন্তঃমুখী রেমিট্যান্সের মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনাও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে নীট বৈদেশিক সম্পদের প্রবদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা  থাকলেও সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি ভঙ্গির কারণে নীট অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির  সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯.৩ শতাংশ। যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৪৪.৪ শতাংশ ও ১৪.৮ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবদ্ধি সরকারি খাতের তুলনায় কম দেখালেও টাকার অংকে বেসরকারি খাতের জন্য প্রক্ষেপিত মোট ঋণের পরিমাণ সরকারি খাতের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির।

সরকারের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, সরকার কর্তক ইতোমধ্যে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ বাস্তবায়নে পাশাপাশি চলমান বহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নার্থে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও ব্যাংকবহির্ভূত খাত হতে ঋণ সংগ্রহের উৎসসমূহ সংকুচিত থাকায় ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলমান করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকার কর্তক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবদ্ধি  অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন বিনিয়োগ জোরদারকরণে বেসরকারি খাতে ১৪.৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা