kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

রপ্তানি করা গেলে চামড়ার বাজারে সুদিন ফিরবে

টিপু সুলতান মহাসচিব, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

এম সায়েম টিপু    

২৯ জুলাই, ২০২০ ০৯:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রপ্তানি করা গেলে চামড়ার বাজারে সুদিন ফিরবে

টিপু সুলতান

আসন্ন কোরবানির ঈদে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এর আগের বছর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম কমেছে ১০ টাকা বা ২৯ শতাংশ। গত ঈদে চামড়া নিয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনার পর এবার সতর্ক পদক্ষেপ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বাজারে অর্থের সরবরাহ না থাকলে গরিব আর এতিমরা এবারও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাজি টিপু সুলতান। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামে যেকোনোভাবে এবারের ঈদের চামড়া সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য সরকারের ৩০০ নিবন্ধিত আড়তদার এবং দুই হাজার ফড়িয়া আছে। তাঁদের সংগঠিত করতে হবে। এবং ঈদের আগেই চামড়া কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পৌঁছে দিতে হবে। তাঁরা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করবেন।’

টিপু সুলতান বলেন, ‘ট্যানারির মালিকদের কাছ থেকে আড়তদাররা এখনো কোনো টাকা-পয়সা পাননি। এ ছাড়া আগের ১৫৩ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। সরকার ট্যানারি মালিকদের নানা সুবিধা দিলেও তাঁরা নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামেও চামড়া ক্রয় করেন না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর কাছে আস্থা হারানোর ফলে ব্যাংকও সহযোগিতা করছে না। এর ফলে পুঁজির অভাবে এবারও চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এবার নয়-ছয় করলে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু আংশিক বা প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে টিপু সুলতান বলেন, ‘ওয়েট ব্লু রপ্তানি হলে চামড়ায় সুদিন ফিরবে।’ মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সাল থেকে প্রাথমিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা পশম ছাড়ানো (ওয়েট ব্লু) চামড়া রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর পরই ব্যবসায়ীরা আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের দ্বিতীয় ধাপ ‘ক্রাস্ট’ ও তৃতীয় ধাপ ‘ফিনিশড লেদার’ উৎপাদন শুরু করেন। তবে ওয়েট ব্লু বন্ধ থাকার পর থেকে চামড়া ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করে।

টিপু সুলতান বলেন, ‘রপ্তানি করা গেলে দেশের জন্য মঙ্গল হতো। এ ছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হতো। বর্তমানে ট্যানারি মালিকরা সরকার এবং জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে। ব্যাংক টাকা না দিলে তাঁরা ব্যবসা করতে পারেন না। এমনটা হওয়া উচিত নয়। তবে এটা ঠিক সম্প্রতি কভিড-১৯ এবং বিশ্ববাজারে চামড়ার দরপতনে ট্যানারি মালিকরাও বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।’

চামড়া রপ্তানির ব্যাপারে টিপু সুলতান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিনি মনে করেন প্রকৃত অর্থে এই বছর কোনোভাবেই রপ্তানি করা সম্ভব নয়। রপ্তানির জন্য সরকারের কাছ থেকে উদ্যোক্তাদের আইনি অনুমোদন পেতেই প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করে এ কথা বিশ্ববাজারের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের জানতে হবে। এটা করতে ছয় থেকে এক বছর সময় লাগবে। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে, এরপর রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এমন পরিস্থিতিতে চামড়াশিল্পের সংকট উত্তরণে তাঁর পরামর্শ জানতে চাইলে টিপু সুলতান বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। এ ছাড়া তিন দশক ধরে চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে রেখেছে। ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; এই ফাঁদ থেকে বের হতে সরকারকে জনবান্ধব নীতি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

সরকার চামড়ার দর নির্ধারণ করে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই যেন নায্য দাম পায় এ জন্য। এ ছাড়া এই অর্থের মাধ্যমে দেশের অনেক এতিমখানা চলে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সঠিক নয়; এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে।’

তাঁর মতে, প্রয়োজনে রপ্তানি বাজার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা