kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ক্রেতার আগ্রহ এখন হোম ডেলিভারিতে

রফিকুল ইসলাম    

১২ জুলাই, ২০২০ ০৯:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রেতার আগ্রহ এখন হোম ডেলিভারিতে

আজিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস করেন আব্দুর রহমান। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আয় খুব বেশি নয়। যা পান তা দিয়েই তাঁর সংস্কার চলছে। তাঁর বাসস্থানের আশপাশে রয়েছে ছোট-বড় কয়েকটি কাঁচাবাজার। সেসব কাঁচাবাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেন। এখনো হরেক রকম কাঁচা পণ্য নিয়ে সেই বাজার বসে; কিন্তু এখন তিনি পণ্য কিনছেন সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ থেকে। প্রচলিত বাজার থেকে এখানে পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হলেও মূলত করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটার সুযোগ থাকায় সেখানে যান। তিনি জানান, অনেক সময় আউটলেটে সশরীরে যেতে না পারলেও মোবাইল ফোনে পণ্য অর্ডার দেওয়া যায়। কিছু সময় পর সেই পণ্য বাসায় পৌঁছে দেন স্বপ্নর কর্মীরা।

এমন ঘটনা দু-একটি নয়। করোনা সতর্কতায় প্রচলিত বাজারের চেয়ে সুপারশপে পণ্য কেনাকাটা বাড়ছে। আগে উঁচু শ্রেণির মানুষরাই শুধু সুপারশপে কেনাকাটা করলেও এখন সেটা অনেকটাই পাল্টেছে। মধ্যবিত্ত বা সাধারণ স্তরের মানুষরাও সুপারশপে পণ্য কিনছে। গণহারে না বাড়লেও সুপারশপে মধ্যবিত্তের পণ্য কেনা বেড়েছে।

গত মার্চে দেশে করোনা হানা দিয়েছে। করোনার ধাক্কা লেগেছে বাজারগুলোতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে সেভাবে প্রভাব না পড়লেও অন্যান্য পণ্য কেনাকাটায় ধস নামে। কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড় সব সময় থাকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গিয়ে অনেকে সশরীরে বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে অনলাইন বা মোবাইলে পণ্য কেনাকাটা বেড়েছে। প্রচলিত কাঁচাবাজারগুলোতে এখনো স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন না হলেও সুপারশপে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে সুপারশপে ব্যতিক্রম থাকলেও স্বাস্থ্যবিধির কিছুটা হলেও মানা হচ্ছে।

করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি এ ক্ষেত্রে বড় ভুক্তভোগী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরতরা একটু বেশিই বিপদে পড়েছে। অনেকের বেতন বন্ধ, আবার অনেকের বেতন কমানো হয়েছে। কেউবা চাকরিচ্যুতও হয়েছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির যারা একটু ভালো অবস্থানে রয়েছে, তাদের বড় অংশই সুপারশপে পণ্য কিনছে। রাজধানীর কয়েকটি সুপারশপ ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে প্রবেশপথে বসে থাকছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ক্রেতা এলে হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট দূরত্বে এবং সুরক্ষা পোশাক পরছেন বিক্রয়কর্মীরা।

তাঁরা বলছেন, করোনার কারণে আগের মতো ক্রেতা নেই। বিক্রিও কম। সশরীরে ক্রেতা আসার চেয়ে মোবাইলে পণ্যের অর্ডার আসছে। অর্ডার পাওয়ার পর পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পণ্য এখন হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে স্বপ্নর আজিমপুর আউটলেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা কম। দু-একজন ক্রেতা আসছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য কিনছেন। পণ্যের মধ্যে নিত্যপণ্যই কিনছেন বেশি। বিলাসী পণ্য না কিনলেও অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন তাঁরা। আধাঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতার দেখা মেলে।

নির্মাণ খাতের একটি কম্পানিতে ম্যানেজার পদে কর্মরত সাব্বির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হয়। কাঁচাবাজারে মানুষের আনাগোনা বেশি থাকায় এখন সুপারশপ থেকে পণ্য কিনছি। এখানে দাম কিছুটা বেশি হলেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। যদিও আগে প্রচলিত কাঁচাবাজারে পণ্য কিনতাম। কিন্তু করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব মানতে গিয়ে সুপারশপে অভ্যস্ত হচ্ছি। আবার অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় আউটলেটে না যেতে পারলে ফোনেই পণ্য পৌঁছে দেন বিক্রেতা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা