kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ফেসবুককে বিজ্ঞাপনদাতাদের 'ডিসলাইক'!

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন    

৯ জুলাই, ২০২০ ০৯:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেসবুককে বিজ্ঞাপনদাতাদের 'ডিসলাইক'!

বিশ্বজুড়ে বহু আন্দোলনের সূতিকাগার হয়ে ওঠা ফেসবুক নিজেই এবার আন্দোলনের ঝড়ে পড়েছে। বর্ণবাদ বা ঘৃণা ছড়ায়—এমন সব পোস্ট রোধ করতে না পারায় ফেসবুকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে একের পর এক বহুজাতিক কম্পানি। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুনের শেষদিকে দুটি সামাজিক সংগঠন অ্যান্টি-ডিফেম্যাশন লিগ (এডিএল) এবং এনএএসিপি ‘স্টপহেটফরপ্রফিট’ আন্দোলনের সূচনা করে। এতে বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয় তারা যেন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া থেকে বিরত থাকে। সেই আন্দোলনে সাড়া দিয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কোকা-কোলা, পেপসি, ইউনিলিভার, হোন্ডাসহ প্রায় ১ হাজার কম্পানি।

কোকা-কোলার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা অন্তত ৩০ দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেবে না। প্রতিষ্ঠানটির সিইও জেমস কুয়েন্সি বলেন, ‘বিশ্বে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও এর জায়গা নেই। সামাজিক যোগাযোগ কম্পানিগুলোকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হতে হবে।’ আরেক কোমল পানীয় কম্পানি পেপসিকো জানিয়েছে, আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাস পর্যন্ত তারা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেবে না। তবে এ ব্যাপারে একটি সূত্রের উল্লেখ ছাড়া কম্পানির সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যানি।

ফেসবুকের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান কফি কম্পানি স্টারবাকস জানায়, তারা সব ধরনের সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদান স্থগিত করেছে। ফেসবুকে আগামী জুলাই পর্যন্ত বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আর্কটেরিক্স। আইসক্রিম কম্পানি বেন অ্যান্ড জেরি’স জুলাই পর্যন্ত বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। বহুজাতিক কম্পানি ইউনিলিভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফোন কম্পানি ভেরিজনও ফেসবুক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াছাড়ির কথা জানিয়েছে ভাইবার কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, ভাইবার অ্যাপ থেকে ফেসবুক কানেক্ট, ফেসবুক এসডিকে এবং গিফি সরিয়ে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ফেসবুক নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের বিজ্ঞাপন স্থগিত করবে ভাইবার। ফেসবুক বয়কটের ঘোষণা দেওয়া কম্পানিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে খুচরা প্রতিষ্ঠান আরইআই, দ্য নর্থ ফেস, পেটাগোনিয়া, উপওয়ার্ক, ড্যাশলেন, বিম সানটোরি, এডিবয়ার, ইলিন ফিশার, হারশে’স, জ্যানস্পোর্ট, লেভি স্ট্রস, ম্যাঙ্গোলিনা পিকচার্স ইত্যাদি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখন থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিকর পোস্টে তারা বিশেষ লেবেল বা বার্তা লাগিয়ে দেবে। তবে সংবাদ হিসেবে গুরুত্ব থাকায় তা ছেড়ে দিতে হবে তাদের। ফেসবুকের বৈশ্বিক ব্যবসার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যারোলিন এভারসন বলেন, ‘যেকোনো ব্র্যান্ডের সিদ্ধান্তকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য মুছে দেওয়া অব্যাহত রাখব এবং এ ব্যাপারে আমরা আরো সতর্ক থাকব।’

ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক থেকে বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ না রাখা ও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তাতে মন গলেনি আন্দোলনকারীদের। গতকাল মার্ক জাকারবার্গসহ ফেসবুকের অন্যান্য নির্বাহীর সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে হতাশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের নেতারা। তাঁদের মতে, ঘৃণাপূর্ণ কনটেন্ট সরাতে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক। ‘স্টপহেটফরপ্রফিট’ জোটের অন্যতম সংগঠক ফ্রি প্রেসের কো-সিইও জেসিকা গঞ্জালেস বলেন, ‘ফেসবুকের নির্বাহীরা আমাদের দাবির প্রতি যে মনোভাব দেখালেন তা পিআর এক্সারসাইজ ছাড়া আর কিছুই নয়।’ অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ কালার অব চেঞ্জের প্রেসিডেন্ট রাশেদ রবিনসন বলেন, ‘বৈঠকটি হতাশাজনক।’ বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে বিজ্ঞাপন বন্ধ করায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে ফেসবুক। ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফেসবুকের শেয়ারে ৮.৩ শতাংশ দরপতন হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারায় প্রতিষ্ঠানটি। কম্পানির শেয়ারের এ দরপতনের ধাক্কা এসে পড়েছে মার্ক জাকারবার্গের মোট সম্পদেও। 

এএফপি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা