kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

বেনাপোলে ১০ মিনিটে পণ্য শুল্কায়নের রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মে, ২০২০ ১৬:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেনাপোলে ১০ মিনিটে পণ্য শুল্কায়নের রেকর্ড

দশ মিনিটে শুল্কায়ন শেষ। ১৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার। শুল্কায়ন সময় হ্রাসে নতুন রেকর্ড। গত ১৯ মে মঙ্গলবার এ রেকর্ড করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনাপোল কাস্টম হাউস। ভারত থেকে ২১টি রেল ওয়াগন বোঝাই পাটবীজ আমদানি হয়। ৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি (৭৭৫ টন) ধানবীজ। সম্ভাব্য খাদ্য সংকটরোধে ধানবীজ দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছাতে নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বেনাপোল বন্দরে।।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় কাস্টমস সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডর তথ্যে দেখায়, ধানবীজের ওয়াগনগুলো ১৯ মে সন্ধ্যা ৭.১৯ মিনিটে রেলওয়াগনে বেনাপোল রেলস্টেশনে পৌঁছে ১১টা ২৭ মিনিটে রাতেই সিএন্ডএফ এজেন্ট সারথি এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি রেজিস্ট্রেশন করে  ১১টা ৩৬ মি. রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন শুল্কায়ন অনুমোদন করেন। ৯ মিনিটে সিএন্ডএফ এজেন্ট পরবর্তী সোনালী ব্যাংকে শুল্ককর জমা করেন। ১১টা ৪৬ মিনিটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান  রিলিজ অর্ডার প্রিন্টেড করে। সর্বসাকুল্যে ১৯ মিনিটে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ১০ মিনিটে শুল্কায়ন ও পরবর্তী ৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার প্রিন্টহয়। 

রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন বলেন, সমগ্র আমদানি প্রক্রিয়ায় এ টুকুই কাস্টমসের কাজ। তিনি আরো বলেন, শেষ ৯ মিনিট সময়সিএন্ডএফ এজেন্ট টাকা জমা দিতে নিয়েছেন। সবঠিক থাকলে ৫ মিনিটেও আমরা শুল্কায়ন করার দক্ষতা অর্জন করেছি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে কেবল রেলকার্গো নয়, সবধরণের চালানই দ্রুত শুল্কায়ন করা যায়।

আমদানি চালানে দেখা যায়, ভারত থেকে দুইটি চালানে রাইসসিড (ধানবীজ) আমদানি হয়। ২১টি রেল ওয়াগনে ৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি (৭৭৫ মেট্রিক টন) ধানবীজ আমদানি হয়। ঢাকার গুলশানের বায়ার ক্রপসাইন্স লিমিটেড ভারতের বায়ারবায়ো সায়েন্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এসব বীজ ক্রয় করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট সারথী এন্টারপ্রাইজ বিল অব এন্ট্রি দাখিলকরে (সি-২১৯৯৩ ও ২১৯৯৪)। দি সিটি ব্যাংক গুলশান শাখায় এলসি খোলে। এসব বীজের শুল্ককর ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮টাকা। রেলকার্গোতে আমদানি দ্রুত শুল্কায়ন, খালাস হয়। সময় ও খরচ সাশ্রয়ের সাথে পণ্য নষ্ট হয় না। পার্কিং সিন্ডিকেট মাঝপথেট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করতে পারে না। রেলকার্গোতে লকডাউন ও স্বস্থ্যবিধি মেনে আমদানি করা হয় এবং করোনা ঝুঁকি থাকে না।

ট্রাক ও রেলকার্গোর তুলনা করে দেখা যায়, বর্তমান রেলকার্গোটি মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ভারত থেকে বেনাপোলে পৌঁছে। একওয়াগন ৪ ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়। রেলকার্গোতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ কম। ভাড়া ট্রাকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। আবশ্যিক পার্কিং, ট্রাক অপেক্ষা ও চাঁদাবাজি নেই। দিনে ১০০ বগির একটি ট্রেন ৪০০ ট্রাকের সমান পণ্য আনতে পারে।

ট্রাকে ধানবীজের এ চালানটি আমদানি হলে ৫ থেকে ৬ দিন খালাস পর্যন্ত লাগত। ৫০টির বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হতো। ৫০ জন ড্রাইভার একজন না এলে খালাস বন্ধ। যানজট বন্দরে ও রাস্তায় সৃ্ষ্টির কারণ হতো। ট্রাকে একই চালানের ভাড়া দ্বিগুণেরওবেশি। প্রান্তিক ভোক্তা কৃষকের ব্যয় প্রায় ২৫% বেড়ে যেত।

শুল্কায়নে এ রেকর্ড চোখে আঙ্গুল কয়েকটি জিনিস দেখিয়ে দিল। আমরা চাইলে পারি! এসকল ক্ষেত্রে দরকার যোগ্য নেতৃত্ব। এরসাথে সাথে উদ্যমী টিম থাকলে অসাধ্য সাধন সম্ভব। বেনাপোল যেটা সম্ভব করেছে। এভাবে দেশের অন্যান্য কাস্টমসের কর্মকর্তা, বন্দর, সিএন্ডএফ এজেন্ট, দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করলে এবং বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সরকারে অন্যান্য সংস্থাগুলো একই গতিতে বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স’ খুব দ্রুত পঞ্চাশের নিচে নামিয়েআনা সম্ভব। আমরা বিশ্বকে এভাবে ‘কাজে বড়’ প্রমাণ করতে চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা