kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

কালের কণ্ঠ বিজনেস শোতে তরুণ অর্থনীতিবিদরা

সুইডেনে হয়নি লকডাউন, অর্থনৈতিক চাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ মে, ২০২০ ১৮:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুইডেনে হয়নি লকডাউন, অর্থনৈতিক চাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা

করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকমাস ধরেই পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই অর্থনীতি নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগি সংস্থাগুলো যেমন- বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ সবাই বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিশ্ব অথনীতি বড় ধরণের মন্দার দিকে যাচ্ছে। যে ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি পৃথিবী এর আগে কখনই হয়নি।

জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ৩.২ শতাংশ হারে কমছে। এবং এর পরিমানটা হবে ৪ বছরের অথনৈতিক কার্যক্রমের যে যোগফল তার সমান। এবং বলা হচ্ছে এটা প্রায় ৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি। সেই ক্ষতি কতোটা পৃথিবী বহন করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠের নিয়মিত ফেসবুক লাইভ বিজনেস শোতে অংশ নিয়ে এসবই বিশ্লেষণ করেছেন সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশের তরুণ অর্থনীতিবিদরা। কালের কণ্ঠের সিনিয়র বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদীর সঞ্চালনায় এই শোতে অংশ নেন পরিকল্পনা সুইডেনের লিংকোপিং ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী সালাহউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. হায়দরী আকবর আহমেদ, কানাডার কনেস্টোগা বিজনেস স্কুলের অর্থনীতির শিক্ষক লিটন চক্রবর্তী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাকিম।

গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, করোনার এই সময়ে সুইডেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী নীতি বাস্তবায়ন করেছে। তারা দেশকে লকডাউন করেনি। সুইডেনের হেলথ সিস্টেমটা পুরোপুরি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নীতি নির্ধারকদের হাতে, সেক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ অনুযায়ি সরকার তার নীতিগুলো বাস্তবায়ন করে। সুইডেনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হল- সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু গাইডলাইন নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। নাগরিকরা নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এসব নির্দেশ মেনে চলছেন। তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাচ্ছেনা। তাছাড়া সুইডেনের স্কুল, কলেজগুলো বন্ধ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোটাই চলছে অনলাইনে।  

তিনি আরো বলেন, সুইডেনের সোশ্যাল সেফটিনেট প্রোগ্রামটা অনেক শক্তিশালী। হেলথ ইনস্যুরেন্স, জব ইনস্যুরেন্স এখানে অনেক সুরক্ষিত। দেশটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থানে অনেক আগে থেকেই বিপুল পরিমান বিনিয়োগ করে রেখেছে। ফলে অর্থনৈতিক বিবেচনায় বলতে গেলে, করোনা পরবর্তী সময়ে সুইডেন অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকবে।

হায়দরী আকবর আহমেদ বলেন, আমেরিকাতে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১৪.৭ শতাংশ। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলছে, এপ্রিল, মে, জুনের প্রাক্কলন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মতো অর্থনীতি সংকোচিত হবে। যা জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। সাড়ে ৩ কোটি লোক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে।

তিনি আরো বলেন, এদেশের সেবা খাতে স্থবির হয়ে আছে। বর্তমানে এয়ারলাইন, ট্যুরিজম, হসপিটালিটি, রেস্টুরেন্ট বন্ধ। কভিড অবস্থার কারণে আমেরিকার ফুড সাপ্লাই এখন বড়ভাবে সংকটরের মধ্যে আছে। দেশের প্রত্যেক শহরেই একটি ফুড ব্যাংক চালু হয়েছে। এবং সেই ফুড ব্যাংকে প্রচুর পরিমাণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মার্কিন নাগরিক ওখানে গিয়ে খাবার নিচ্ছেন। কারণ তাদের খাবার কেনার স্বামর্থ্য এই মুহূর্তে নেই। উপরন্তু দেশটি যেহেতু লকডাউনের মধ্যে আছে ফলে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্যের সাপ্লাই চেইন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে আমেরিকায় নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরণের চাপের মধ্যে আছে।  
 
লিটন চক্রবর্তী বলেন, কানাডার অর্থনীতি আমেরিকার অর্থনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। আমেরিকার অর্থনীতিতে কখনো বড় ধরণের ক্ষতি হলে যাদের উপর প্রথম প্রভাব পড়ে তা হল কানাডা। ফলে করোনার প্রভাবে আমেরিকায় যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তার কাছাকাছি চিত্র কানাডাতেও। সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন জনসম্মুখে এসে ভাষণ দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন তহবিল ঘোষণা করছেন।

তিনি আরো বলেন, কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। এর মধ্যে জনসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি ৭৭ লাখ। এই জনসংখ্যার মধ্যে এই পর্যন্ত ৮০ হাজার ১৪২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর সুস্থ্য হয়েছে ৪০ হাজার ৭৭৬ জন। কিন্তু মৃত্যু সংখ্যা ৬ হাজার ৩১ জন। অর্থাৎ মৃত্যু হার অনেক বেশি।
 
করোনার প্রভাব হিসেবে কানাডায় ভোক্তা এবং ব্যবসায় আত্নবিশ্বাস অনেক কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে আত্নবিশ্বাস কমেছে। এখানে বেকারত্বের হার ১৫.৬ শতাংশ। এখান ৩০ লাখ লোক চাকরি হারিয়েছেন গত ফেব্রুয়ারি  থেকে। কনফারেন্স বোর্ড অব কানাডার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

ড. মাহবুবুল হাকিম বলেন, করোনায় বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেক্টর। ওষুধ আবিষ্কারের পর হয়ত এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের পথ পাওয়া যাবে। বৈশ্বিকভাবে সব অর্থনৈতিক সূচক নেতিবাচক কিন্তু বৈশ্বিক পুঁজিবাজার প্রথম পড়ে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চীন ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর অর্থনীতি বেশ সচল থাকায় পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পরের প্রান্তিক (এপ্রিল থেকে জুন) বৈশ্বিকভাবে আসলে পুঁজিবাজারে একটা ধাক্কা আসতে পারে। তখন আমরা ভালভাবে বুঝতে পারবো গ্রেট লকডাউন বা কভিড-১৯ সংকটটা কি ধরণের হয়েছে।

অনুলিখন : শরিফ রনি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা