kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে

সজীব হোম রায়    

১৯ মে, ২০২০ ১২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে। অবস্থা এমনই যে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করেছে। গত ১৩ মে পর্যন্ত সরকারের ব্যাংকঋণ ৮১ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে। মূলত করোনার প্রভাবে রাজস্ব আয়ে যে ধাক্কা লেগেছে তার কারণে বাধ্য হয়েই সরকারকে ঋণ নিতে হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। অর্থাৎ সরকারের আয় কমে গেছে। কিন্তু ব্যয় হচ্ছে ঠিকই। আয়ের অন্যান্য খাত যেমন, সঞ্চয়পত্র বিক্রিও কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই সরকার ব্যাংক খাতে ঝুঁকছে।’

সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু রাজস্ব আয়ে বিশাল ঘাটতি। উন্নয়ন প্রকল্পের খরচসহ নানা কারণে গত ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৪৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার। ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়। গত মার্চে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম হয়ে গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, চলতি মাসের ১৩ মে পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৮১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত টার্গেট থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হিসাবে দেখা যায়, গত ১০ বছরের মধ্যে চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে। এর আগে সবচেয়ে বেশি ঋণের রেকর্ড ছিল গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। গত অর্থবছরে ঋণের পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। আর এবার গত ১৩ মে পর্যন্ত ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত জুনেই এই পরিমাণ ছিল এক লাখ আট হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে সরকারকে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। উল্টো সে বছর বকেয়া ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয় ২৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৮ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫১৪ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেওয়া হয়নি, উল্টো পরিশোধ করা হয়েছে আট হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঋণ নেওয়া হয় ২৮ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ঋণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা