kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী বছর পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে ই-কমার্সে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মে, ২০২০ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগামী বছর পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে ই-কমার্সে

আগামী এক বছর পর ই-কমার্স, মার্কেটপ্লেস, লজিস্টিক সব সেবা মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, যেভাবে মানুষ জরুরী প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ই-কমার্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তাতে এই খাতে জোরালো সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

করোনা সংকট সময়ে ই-কমার্সের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ই-ক্যাবের উপদেষ্টা নাহিম রাজ্জাক এমপি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.  মো. জাফর উদ্দীন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব মো. ওবায়দুল আজম, ডব্লিউটিও সেলের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, অনলাইন ব্যবসার গতি ডিজিটাল পেমেন্টকে ত্বরান্বিত করবে এবং আমাদের আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হয়ে উঠবে।

মো. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকেই ই-ক্যাবের ডাকে সাড়া দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়েছে অন্যদিকে জনসাধারণ ও ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ধাপে ধাপে অনুমতি দিয়েছে। একসময় ব্যবসা খাত পুরোটাই ই-কমার্স নির্ভর হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাবনাময় এই খাতের জন্য ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসা উচিত। প্রয়োজনে তাদের ঋণ দেওয়ার শর্ত শিথিল করার আহবান জানান তিনি।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ই-কমার্সের সম্ভাবনা আমাদের সামনে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন আমরা যদি ক্রস বর্ডার ই-কমার্সকে সহযোগিতা করে আরো বিকশিত করতে পারি। দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এই খাত। যারা এখনো প্রচলিত পন্থায় ব্যবসা করেন তাদের ই-কমার্সে আসার সময় হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেকে অনলাইন বিজনেস শুরু করেছেন।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, করোনা সংক্রমণ সমস্যায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের প্রসার হলেও ই-ক্যাবের ৯২ শতাংশ উদ্যোক্তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। শুধু ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার কর্মী কাজ করছে। যাদের ২৬ শতাংশ নারী। ই-ক্যাবের ১১০০ সদস্য প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। যারা আগেই পহেলা বৈশাখ ও ঈদের জন্য মালামাল ক্রয় করেছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। 

তিনি বলেন, এসব ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় সরকারের কাছে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে ২৪০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ৬শ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ চাওয়া হয়েছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, করোনা সংকটের শুরুতেই ই-ক্যাব ভার্চুয়াল সেক্রেটারিয়েট চালু করেছে। ই-কমার্স ও লজিস্টিক  সেবা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার খোলা হয়। করোনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্যও একটি আলাদা তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষকে সাপোর্ট সেন্টার ও তথ্যকেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা