kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

ব্রিটিশ সরকারকে রুশনারা আলীর চিঠি

‘পোশাক শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো ব্র্যান্ডগুলোর দায়িত্ব’

জুয়েল রাজ, লন্ডন থেকে   

২৯ এপ্রিল, ২০২০ ০৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ সরকারকে রুশনারা আলীর চিঠি

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প ও এ খাতের শ্রমিকদের সহায়তার জন্য ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন দেশটির বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব’ শীর্ষক ২৩শে এপ্রিলের ওই চিঠির প্রাপক ছিলেন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ঋষি  সুনাক। চিঠিতে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে নির্বাচিত এমপি রুশনারা আলী  লিখেছেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প ও শ্রমিকদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। এই খাতের শ্রমিকদের সহায়তা করা আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠির শুরুতে রুশনারা আলী  লিখেছেন, “করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বকে পালটে দেবে। লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এক নজিরবিহীন গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে।”

তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাজ্য নিজ দেশে পদক্ষেপ নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ব্রিটিশ জনগণের স্বাস্থ্য ও মঙ্গলের বিষয়ে আগে চিন্তা করেছে। এটি সঠিক। তবে আমি আশা করি যে আপনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে একমত হবেন যে, কভিড-১৯ ‘পুরো মানবতার জন্যই এক ভীতিকর বিপদ। সুতরাং, পুরো মানবতাকে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’ এই ভাইরাস আন্তর্জাতিক সীমান্তের পরোয়া করে না। তাই সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর সুরক্ষায় কাজ করতে হবে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোকে। এটিই আমাদের অভিন্ন স্বার্থ। আমাদের বৈশ্বিকভাবে সক্রিয় হতে হবে, যেন আমরা নিজেরা সুরক্ষিত থাকতে পারি।”

রুশনারা আলি যোগ করেন, “ইতিমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে এই মহামারি। প্রবৃদ্ধি তলানিতে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি যে সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধসে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা হারাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি।”

চিঠির এই পর্যায়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস  শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে এই এমপি বলেন, “চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। দেশটির রপ্তানির ৮০ শতাংশই এই খাত থেকে হয়। ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বিধান প্রয়োগ করে ইতিমধ্যেই পশ্চিমা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের কারখানা থেকে ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। এখন পর্যন্ত ৩৭০ কোটি ডলার মূল্যের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৪০ কোটি পাউন্ড বা ৩০০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে বৃটিশ খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে রয়েছে এএসডিএ, নিউ লুক, এডিনবার্গ উলেন মিল, পিককস, স্পোর্টস ডাইরেক্ট অ্যান্ড আরবান আউটফিটার্স, ইত্যাদি। এর ফলে শ্রমিকরা তাদের একমাত্র আয়ের উৎসও হারাচ্ছে। ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়েছে তারা ও তাদের পরিবার।”

রুশনারা আলি ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীকে আরও লিখেন, “বাংলাদেশের গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই দেশটির ৪০ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকের ২৫ শতাংশই চাকরি হারিয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সস্তা শ্রমবাজারকে ব্যবহার করে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করছে, তাদের এই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্ব রয়েছে। এই শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা আছে খুব সামান্যই। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে এর সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আরও কিছু করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা