kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

বৈশাখী পণ্য বিক্রি করতে না পারায় লোকসানে নারী উদ্যোক্তারা (ভিডিওসহ)

ফারজানা লাবনী    

১৪ এপ্রিল, ২০২০ ১০:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈশাখী পণ্য বিক্রি করতে না পারায় লোকসানে নারী উদ্যোক্তারা (ভিডিওসহ)

নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন আউয়াল

বৈশাখী পণ্য বিক্রি করতে না পারায় লোকসান গুনছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারীখাতের নারী উদ্যোক্তারা। এসব নারীরা দাবী করেছেন, করোনা হঠাৎ আঘাত হেনেছে, এর জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউ। প্রতি বছরের মত এবারেও বড়ধরনের লাভের আশায় পুঁজির সবটা বিনিয়োগ করে গত সাত/আট মাস থেকে বৈশাখী পণ্য বানিয়েছেন তারা। কিন্তু করোনার আঘাতে সব হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে, বিক্রি করতে পারছেন না কোনো পণ্য।

করোনা সংক্রমণের আশংকায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। গত মাসের শেষ সময় থেকে নিত্য পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া বাকী দোকান বন্ধে সরকারি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকলে নির্দেশ মানছে কিনা তা কঠোর নজরদারি করছে আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী। জেলায় জেলায় চলছে লক্ডাউন। রাজধানীসহ অনেক বিভাগীয় শহরের এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় প্রবেশ আটকাতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কৌশল। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পরিবহণ চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমন পরিস্থিতিতে শপিংমল থেকে ফুটপাত, পাড়া মহল্লার দোকান-পাট কোথাও বৈশাখী কেনা-বেচার সুযোগ নেই।

পহেলা বৈশাখের পরে বৈশাখী পণ্যের তেমন চাহিদা থাকে না। তাই পহেলা বৈশাখের পরে এসব পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা কম।  

অনেক নারী উদ্যোক্তারা তাদের কর্মীদের নিরাপত্তায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনিশ্চিত এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তার দিনক্ষণ জানাও সম্ভব না। তাই নারী উদ্যেক্তারা কর্মীদের জানাতে পারছেন না, কবে তারা কাজে আবারো আসবে বা উৎপাদন শুরু হবে।      

প্রতি বছর বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদ্যাপনে অনেকে নতুন পোশাক, মাটির তৈরী পণ্য, চুড়ি, সাজ সজ্জার জিনিস, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরণের খাবার কিনে থাকেন। তাই পহেলা বৈশাখের দিন পনেরো আগ থাকতে এসব পণ্য বিক্রি বাড়ে। ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় বড় বড় শপিং মল থেকে ফুটপাতেও চলে প্রস্তুতি। বড় ধরনের মুনাফার আশায় অনেক বিক্রেতা বাড়তি পণ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি বাড়ে। দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বৈশাখীমেলা। বিপনীবিতানের পাশাপাশি বিভিন্ন মেলাতেও নারী উদ্যোক্তারা বৈশাখী পণ্য বিক্রি করে থাকেন। পিঠা, বাতাসা, ফুচকা, চটপটি, আচার, মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন অনেকে।

গত পাঁচ/সাত বছর থেকে দুই ঈদের পরে বাংলা বর্ষবরণ আয়োজন সবচেয়ে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। করোনা ব্যাধির সংক্রমণের আশংকায় প্রতি বছরের চিরচেনা চিত্র এবারে পাল্টে গেছে। ভয়াবহ এ মহামারীর কারণে সকল ধরনের বৈশাখী বাণিজ্য এবারে বন্ধ।

করোনার আঘাত হঠাৎ এসেছে। এর জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউ। প্রতি বছরের মত এবারেও পহেলা বৈশাখ ঘিরে বাণিজ্য করতে উদ্যোক্তারা সাত/আট মাস আগ থেকেই পণ্য বানানো শুরু করেন। ভাল মুনাফার আশায় অধিকাংশ বিনিয়োগ করেছেন পুঁিজর সবটা। অনেক নারীর কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ঋণ নিয়ে বৈশাখী পণ্য বানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব নারীরা পড়েছেন আরো বিপদে। পণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও তারা তা পারছেন না।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নিজেকে সুন্দর করে সাজাতে অনেক নারী যান বিউটি পার্লারে। তাই প্রতি বছর বৈশাখ ঘিরে বিউটি পার্লারগুলোতে রমরমা বাণিজ্য হলেও এবারে করোনার কারণে পার্লারগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পার্লারগুলোতে বৈশাখ ঘিরে বাড়তি মুনাফা তো দূরের কথা, স্বাভাবিক আয়ই বন্ধ।

করোনা ব্যাধি সংক্রমণের কারণে নারী উদ্যোক্তাদের লোকসান কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা সুষ্ঠুভাবে সরবরাহে দাবী জানিয়েছেন নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন আউয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা