kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দুই কম্পানিকে সিগারেট উৎপাদনের সুযোগ প্রত্যাহারের দাবি ২০ সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই কম্পানিকে সিগারেট উৎপাদনের সুযোগ প্রত্যাহারের দাবি ২০ সংগঠনের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ। সারা দেশ কার্যত অচল। চলমান ছুটির মধ্যে ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড (ইউডিটিসিএল) এবং ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এই দুটি বহুজাতিক কম্পানিকে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন ও তামাক পাতা কেনার সুযোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। 

দুটি কম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে সিগারেট উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন শিল্প সচিব আবদুল হালিম। তবে দুটি কম্পানিকে দেওয়া এই সুযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের ২০টি তামাকবিরোধী সংগঠন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, তামাক হলো করোনা সংক্রমণ সহায়ক পণ্য। এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এরইমধ্যে জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। 

চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও কেন দুটি কম্পানিকে সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ করে দেওয়া হলো জানতে চাইলে শিল্প সচিব আবদুল হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, দেখুন আমি ধুমপান করি না। আমি এর পক্ষেও নই। আমি চাই না দেশে তামাকের বাজার বাড়ুক। কিন্তু আমাকে চিন্তা করতে হচ্ছে কৃষক ও সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে। দুটি কম্পানি হলো বহুজাতিক। বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উন্নতি করতে চাইলে আপনাকে এসব বহুজাতিক কম্পানির সুযোগ-সুবিধাও দেখতে হবে। দুঃসময়ে যদি তাদের সহযোগিতা না করা হয়, পরবর্তীতে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। 

শিল্প সচিব বলেন, সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার আরেকটি কারণ, এখানে অনেক কৃষক জড়িত। এই সুযোগ না দিলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া দেশে তো তামাক নিষিদ্ধ নয়। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে, স্বাস্থ্যগত সব দিক মেনেই সিগারেট উৎপাদন ও বিপণন করবে। 

শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে কিনে নেয় জাপান টোব্যাকো। জাপান টোব্যাকোর আন্তর্জাতিক গ্রুপের (জেটিআইজি) সদস্য হলো ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকো কম্পানি লিমিটেড (ইউডিটিসিএল)। 

কম্পানিটির পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জাপান টোব্যাকো এরইমধ্যে দেশে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো বিনিয়োগ করেছে। এপ্রিল থেকে জুন এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কৃষকদের কাছ থেকে তামাক গাছের পাতা কিনে তা প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয় কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে। আর কারখানা হলো টঙ্গিতে। ১৫ হাজার মানুষ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। সাধারণ ছুটির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে সমস্যায় পড়তে হয় বলে শিল্প মন্ত্রণালয়কে জানায় ইউডিটিসিএল। 

একই ভাবে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোও শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে চলমান ছুটির মধ্যেও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে দুটি কম্পানি। দুটি কম্পানির আবেদন যাচাই বাছাই করে তাদেরকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। 

এবিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

এই বিষয়ে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স প্রগতির জন্য জ্ঞান বা প্রজ্ঞার সমন্বয়ক হাসান শাহরিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা এরইমধ্যে সিগারেট বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বাংলাদেশে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এ অবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই জনস্বাস্থ্যবিরোধী পদক্ষেপ জনমনে হতাশা সৃষ্টি করতে বাধ্য। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। একইসঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিগারেট বিক্রয়ের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি জানাই। 

প্রজ্ঞা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের স্বাস্থ্যক্ষতি বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা