kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যাংক কর্মীদের সুরক্ষায় স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ১১ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংক কর্মীদের সুরক্ষায় স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ১১ দাবি

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন ব্যাংকিং সেবার পরিসর বিস্তৃত করা হচ্ছে। প্রতিদিন ব্যাংক গ্রাউন্ডে শতশত গ্রাহক জমা হচ্ছেন সেবা নিতে। এরা কেউই মানছেন না সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলী। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহক ও কয়েক লাখ ব্যাংককর্মী। তাই সহকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের কাছে ১১টি দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেছে ব্যাংকারদের সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ। 

আজ সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানান স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শওকত হোসেন সজল। 

স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের দাবিগুলো হলো:
১. সামাজিক দূরত্ব যথাযথভাবে পরিপালনে সহায়তা দানে খোলা রাখা ব্যাংক শাখাগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত করা হোক। 
২. সীমিত পরিসরে অর্থাৎ শুধুমাত্র নগদ টাকা উত্তোলন, জমা ও বৈদেশিক রেমিটেন্স এর মধ্যেই ব্যাংকিং সেবা সীমিত রাখা হোক।
৩. সেবা নিতে আসা অপেক্ষারত গ্রাহকদের শাখার ভিতরে অযথা ঘোরাফেরা/অপেক্ষা না করে শাখার বাইরে অপেক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। জনগন ব্যাংকমুখী হয়ে সমাগম এড়ানোর লক্ষ্যে এক মাসে একবারের বেশী টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া আপাতত রদ করা যেতে পারে। 
৪. এটিএম কার্ডধারী গ্রাহকদের চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে অনলাইনমুখী সেবার প্রতি উৎসাহিত করা যেতে পারে। ব্যাংকসমূহ কে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ই-ব্যাংকিং সুবিধার বাধা সমূহ দূর করে এসকল সেবা আরো জনপ্রিয় করতে প্রচার প্রচারণা চালানোর প্রতি মনোযোগী করা হউক। একইভাবে ওয়ালেট ব্যাংকিং, এপস নির্ভর ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এটিএম বুথ হতে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা যুক্ত করা যেতে পারে।
৫. লকডাউনকৃত এলাকায় (যেমন; মিরপুর, বাসাবো, আজিমপুর, মাদারীপুর, নারায়নগঞ্জ) ব্যাংক শাখাগুলোকে তাদের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেয়া হোক এবং এসকল এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আসার উপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের বাসায় থাকা নিশ্চিত করতে হবে।  
৬. দূরত্ব বিবেচনায় কোন একটি ব্যাংকের নির্দিষ্ট সংখ্যক শাখা খোলা রেখে অন্য সব শাখার কার্যক্রম বন্ধ করা হউক। দূরবর্তী শাখার কর্মকর্তা - কর্মচারীদের কর্মস্থলে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাংকের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হোক।
৭. সাপ্তাহিক ব্যাংকিং কর্মদিবসের সংখ্যা কমিয়ে আনা হোক। ২৬শে মার্চ হতে অদ্যাবধি সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত একটানা কাজ করায় ব্যাংকারদের মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তির লক্ষ্যে আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল (রবিবার ও সোমবার) সারা বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরে পূর্ণ দিবস বন্ধ ঘোষণা করার অনুরোধ করছি। 
৮. করোনার এই সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে কর্মরতদের জন্য কোনরূপ ঝুঁকিভাতা/সম্মানীর ঘোষণা নেই ব্যাংকগুলোর নির্দেশনার মধ্যে । ছুটির দিনে কাজ করার জন্য উপযুক্ত প্রনোদনা প্রদান করা হোক।
৯.  দায়িত্ব পালনকারী কোন ব্যাংক কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁর জন্য ব্যাংকের পক্ষ হতে চিকিৎসা সেবাসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করার জোর দাবী রাখছি। এর জন্য বীমা সুবিধাও ঘোষণা করা যায়।
১০. বেশিরভাগ সরকারী বা বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরতদের কোন পেনশন সুবিধা নেই। ২০০৮ সালে প্রধান চারটি সরকারী ব্যাংক কোম্পানীতে রূপান্তর করার পর একমাত্র রূপালী ব্যাংক ব্যতীত অন্য তিনটি ব্যাংকে ২০০৮ পরবর্তী নিয়োগকৃতদের জন্য পেনশন সুবিধা বাতিল করা হয়। তাই দায়িত্বপালনকারী কোন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার দায়, ক্ষতিপূরণ, মৃতের পরিবারের দায়িত্ব কে নিবে ব্যাংক কর্তৃক তা এখুনি নির্ধারণ করা জরুরী। কেউ মারা গেলে তার পরিবারের একজনকে চাকুরীর প্রতিশ্রুতি দেয়া হোক।
১১. সর্বোপরিব্যাংকারদের প্রতি সরকারকে মানবিক বিষয়সমূহ চলমান রাখার প্রার্থনা করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা