kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

সরকারের সহযোগিতা চেয়ে বিসিক শিল্পমালিকদের একগুচ্ছ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারের সহযোগিতা চেয়ে বিসিক শিল্পমালিকদের একগুচ্ছ প্রস্তাব

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) অধীন কারখানা মালিকরা সরকারের সহযোগিতা চেয়ে এক গুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলছেন, বিসিকের অধীন ৭৬টি শিল্প এলাকার সবকারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে কারখানার দক্ষ অদক্ষ প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক। শিল্পমালিকদের ২৭ হাজার ৬৮৯ কোটি বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই বিশেষ তহবিলের বাইরে ছয়মাস পানির বিল মৌকুফ ও ছয়মাসের বিদ্যুৎ বিল পরবর্তী তিন মাসের সমকিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।

আজ রবিবার ঢাকা চেম্বার থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি করা হয়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় ৭২,৭৫০ কোটি টাকার ৫টি প্যাকেজ ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তারা।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ বিসিক শিল্প মালিক সমিতির ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, ঢাকা শিল্প নগরী শিল্প মালিক সমিতি (কেরানীগঞ্জ বিসিক) সভাপতি হোসেন এ সিকদার বলেন, দেশের সকল বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাসমূহে দক্ষ, অর্ধ-দক্ষ, অদক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬২০ জন শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত আছেন। আর এসব শিল্প কল-কারখানায় শিল্প মালিকদের প্রায় ২৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার আর্থিক বিনিয়োগ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশব্যাপী লকডাউন থাকায় বিসিক শিল্প এলাকায় বর্তমানে সকল উত্পাদনমুখী কল-কারখানা বন্ধ রয়েছে যার ফলে এ বিশাল অংকের বিনিয়োগ আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাসমূহ মূলত স্থানীয় বাজার নির্ভর। কাঁচামালের সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন, স্থানীয় বাজারে বিপণন, সরবরাহ, রপ্তানি কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কিছুদিন পর শ্রমিকদের বেতন, বোনাস দেওয়া শিল্প মালিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তাছাড়া পবিত্র রমযান ও ঈদ-উল-ফিতরও আসন্ন।

বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাসমূহের পানির বিল আগামী ৬ মাস মওকুফ করার জন্য এবং প্রতি মাসের বিদুৎ ও গ্যাস বিল পরবর্তী ৬ মাস ৩টি সম-বিভাজিত কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। বিসিক এর অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি শিল্প প্লটের নির্ধারিত একটি সার্ভিস চার্জ রয়েছে যা তিনি আগামী ১ বছরের জন্য মওকুফ ও বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভূক্ত প্লটের কিস্তি আগামী ১ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে সরকারের নিকট আবেদন জানান।

হোসেন এ সিকদার বলেন, শিল্পোদ্যাক্তাদের এ বছরের আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যেন আগামী তিন বছরে সমান তিনটি কিস্তিতে সমন্বয়ের মাধ্যমে জরিমানা ছাড়া প্রদান করতে পারে সে বিষয়ে সরকারের বিশেষ বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি বিসিক শিল্পনগরীতে স্থাপিত নতুন শিল্প কারখানা এবং বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার এবং প্রতিস্থাপন) শিল্প ইউনিটের মূলধনী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য গৃহিত ঋণসহ অন্যান্য ঋণের সুদ আগামী ৬ মাসের জন্য মওকুফ করতে সুপারিশ করা হয়। শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, মোড়ক সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ কর অবকাশ ও শুল্ক রেয়াতের আহ্বান জানান তিনি। তাছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরী তাই সরকারকে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা