kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার বিরুদ্ধে চীনের লড়াইয়ের অর্থনৈতিক শিক্ষা

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১৭:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার বিরুদ্ধে চীনের লড়াইয়ের অর্থনৈতিক শিক্ষা

বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর ও মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস। এর মোকাবেলা কিভাবে করা যায় তার পথ খুঁজছেন নীতিনির্ধারকরা। চীনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখাচ্ছে সঠিক নীতি গ্রহণ করা গেলে করোনার গতি কমিয়ে এনে এ যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব। কিন্তু চীনকে নীতির অনেককিছুই বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চড়া অর্থনৈতিক মূল্য গুণতে হয়েছে। ভাইরাস প্রতিরোধ কিংবা অর্থনীতি এ দুইয়ের একটি বেছে নিতে হয়েছে। গত নভেম্বর উহান প্রদেশে শুরু হওয়া এ ভাইরাস চীনের রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে তাদের সাফল্য এসেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। মানুষের চলাচল সীমিত করা ও সামাজিক দূরত্ব তৈরী করা হয়েছে জনগণের ইচ্ছায় কিংবা জোরপূর্বক। মানুষের চলাচল বন্ধে অত্যন্ত কঠিন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে। অনেক শহরেই কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে হুবাই প্রদেশে। ছোট-বড় শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রায় সব কর্মকান্ডই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পণ্য উত্পাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোটাই বিপর্যস্ত হয়েছে। তার ফলও পেয়েছে হাতেনাতে। অনেক দ্রুত করোনাভাইরাস থেকে পুনরুদ্ধার ঘটেছে এ প্রদেশে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে পুরো বছরজুড়েই এ ক্ষত বহন করতে হবে। 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বে করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষতি অত্যন্ত গভীর হবে, এমনকি তা ২০০৭-০৮ সালের মহাঅর্থনৈতিক মন্দা থেকেও মারাত্বক হবে। কারণ একইসঙ্গে পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজারব্যবস্থা পুরোটাই বিপর্যস্থ হয়েছে। তা প্রথমে চীনে হলেও এখন পুরোবিশ্বজুড়ে। ব্লুমবার্গ ইকোনোমিকস এর এক হিসাবে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। যা যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপির সমান। 

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের জিডিপি কমে হবে ১.২ শতাংশ। যা হবে নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, সেক্ষেত্রে বড় অর্থনৈতিক মূল্য গুণলেও তা করতে হবে। সিএনএন বিজনেসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, নোভেল করোনাভাইরাস চীনের অর্থনীতিকে সংকোচনের মুখে ফেলে দিতে পারে, যা ১৯৭০ সালের পর আর ঘটেনি। 

এদিকে চীনে করোনা সংক্রমন কমে আসায় দেশটির সরকার শিল্পকর্মকান্ড বাড়ানোর জোর তত্পরতা চালাচ্ছে। 
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এ প্রচেষ্টা বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। কারণ কারখানায় স্বাভাবিক কর্মকান্ড শুরু হলে শ্রমিক যাতায়াত বেড়ে তা আবারও করোনা সংক্রমন ঘটাতে পারে। ফলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেয়ে বড় ধরণের বিপর্যয়ের দিকে আবার ফিরে যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি, ব্লুমবার্গ, সিএনএন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা