kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস বিপর্যয়

এক হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চায় সিরামিক খাত

এম সায়েম টিপু   

২৯ মার্চ, ২০২০ ২০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চায় সিরামিক খাত

করোনাভাইরাসের বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় এবার সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। সম্প্রতি তারা এই দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।

প্রণোদনার টাকা দিয়ে সংগঠনটি সিরামিক খাতের শ্রমিকদের মজুরি, কর্মচারীদের বেতন এবং আসন্ন ঈদে উত্সব বোনাস দিতে চায়। বিসিএমইএ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিসিএমইএ পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিসিএমইএ সিরামিক কারখানা পরিচালনায় আগামী ছয় মাসের জন্য সুদ ও জামানতমুক্ত মূলধন হিসেবে এ টাকা চেয়েছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের সুদের হার আগামী ছয় মাসের জন্য ছাড় এবং পরের এক বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়। 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনারভাইরাসের বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রামণ হচ্ছে সিরামিক রপ্তানির বড় বাজার ইউরোপে। ইতালি, স্পেন এবং জার্মানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ায় দেশে সিরামিকখাত বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই দেশের সিরামিকখাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবসাবান্ধব নীতিসহায়তা একান্ত দরকার।’

ইরফান উদ্দিন আরো বলেন, ‘টাইলস ও স্যানিটারি সিংহভাগ অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় ৭০ শতাংশ বন্ধ। রপ্তানি করে এমন কিছু কারখানা চালু আছে। তবে পরবর্তী মৌসুমের জন্য কোনো কার্যাদেশ না থাকায় ওইসব কারখানাও কিছুদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের জন্য সরাকারের দেওয়া ছুটি দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় বাজারেও কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হবে এই শিল্প।’

বিসিএমইএ সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন ও সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে এই খাতের টেবিলওয়্যার, সেনিটারিওয়্যার এবং টাইলসশিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অচলাবস্থার কারণে বাতিল হয়েছে বেশিরভাগ অর্ডার। সরবরাহ লাইনে প্রতিবন্ধকতার কারণে উত্পাদনে কঠিন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। চীন থেকে বেশির ভাগ কাঁচামাল আমদানি করা হয় বলে তীব্র কাঁচামাল সংকটেরও মুখোমুখি হচ্ছে এই খাত।

বিসিএমইএ সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ৬৮টি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ শিল্প রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় ৪শ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল স্থানীয় বাজার রয়েছে এই শিল্পের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা