kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

লেনদেন চলবে ১০টা থেকে ১২টা

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০২০ ১৫:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের দাবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি অফিস সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে লেনদেনের সুবিধার্থে ছুটির মধ্যেও ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নগদ লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত করে বেলা ১০টা থেকে ১২ পর্যন্ত লেনদেন চলবে।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ঝুঁকির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর সরকারি অফিস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লেনদেনের সুবিধার্থে সীমিত আকারে ব্যাংক চালু থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তাকে করোনা ঝুঁকি এড়ানোর পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। ব্যাংকে লেনদেন করতে আসা গ্রাহক থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, করোনা ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি ব্যাংক হেক্সাসল ও মাস্ক দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ব্রাঞ্চে কর্মকর্তাদের মাস্কও দেওয়া হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের জন্য প্রবেশ পথে হেক্সাসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকে হেক্সাসল না নিয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করছে। লেনদেনের সময় সীমিত করায় ব্যাংকের গ্রাহকের ভীড় বেড়েছে। গাঁদাগাদি করে লেনদেন চলছে। এতে টাকার মাধ্যমে করোনা ছাড়ানো বা অন্যের মাধ্যম থেকে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তাঁদের মতে, অনলাইনে বদৌলতে লেনদেন এখন অনেক সহজ হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং কিংবা কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক টাকা তুলতে পারেন। কাজেই ব্যাংক কর্মকর্তাদের করোনা ঝুিঁক এড়াতে ব্যাংক বন্ধ রাখা উচিত। আর ব্যাংক বন্ধ না করলেও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। 

একটি সরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রেজা ফরহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রয়োজনে সোমবার কিংবা বুধবার সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখা যেতে পারে। লেনদেন সীমিত করার ঘোষনায় ব্যাংকে গ্রাহকের ভীড় বেড়েছে। গ্রাহককে নির্দিষ্ট দুরত্বে দাঁড়িয়ে সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও শুনছেন না। ব্যাংক চালু রাখার ঘোষনা আসলেও এখনো কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। হেক্সাসল বা মাস্ক দেওয়া হলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। যাতে ব্যাংক কর্মকর্তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। 

স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শওকত হোসেন সজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি সব অফিস বন্ধ রেখে ব্যাংক খোলা রাখলে মানুষ লেনদেনে ব্যাংকমুখী হবে। লেনদেন সীমিত করায় লেনদেনে ভীড় বাড়বে ব্যাংকে। ঠেসাঠেসি করে লেনদেন করতে এসে অনেক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এইক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনোর সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। একজন ডাক্তার নিজে সুরক্ষিত হয়ে রোগী দেখতে পারেন কিন্তু ব্যাংকাররা নিজে সুরক্ষিত নয়। করোনা ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংক বন্ধ রাখাই ভালো। তবে চালু রাখতে হলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা