kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

উদ্যোগ নিষ্ফল, পতনে জর্জরিত পুঁজিবাজার

রফিকুল ইসলাম    

১৯ মার্চ, ২০২০ ০৮:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদ্যোগ নিষ্ফল, পতনে জর্জরিত পুঁজিবাজার

তারল্য জোগান বাড়াতে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠন, বড় মূলধনের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে সক্রিয় করা ও ভালো কম্পানি আনার উদ্যোগের মধ্যেও পুঁজিবাজারে কোনো উন্নতি নেই। আতঙ্ক থেকে বাজারে বেড়েছে বিক্রির ধুম। দেদার শেয়ার বিক্রির কারণে মূলসূচক কমছে। অব্যাহত বিক্রিতে শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস বাড়ছে।

এদিকে পতন ঠেকাতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার বন্ধের দাবি জানালেও সেদিকে কর্ণপাত করছে না ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে এই মূল্যপতনে দিনের লেনদেন কার্যক্রম এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। এখন বাজারে আড়াইটার পরিবর্তে দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন হবে। গতকাল বুধবার ডিএসই পর্ষদের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ, উন্নয়নের আশ্বাস ও প্রণোদনাতেও কাজ হচ্ছে না। বাজার উন্নয়নে সব মহলের চেষ্টা অনেকটাই ব্যর্থ। মন্দাবস্থার আতঙ্কে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করছেন। ভিত্তি পয়েন্টের নিচে নেমেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই। ক্রমাগত শেয়ারের দাম কমতে থাকায় বিনিয়োগকারীর পুঁজি হারানোর নাভিশ্বাস বাড়ছে। নীরব রক্তক্ষরণ চলছে পুঁজিবাজারে। কেউ লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছে আবার লোকসানের মাত্রা বাড়লেও বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।

২০১৯ সাল জুড়ে মন্দাবস্থার কারণে পুঁজিবাজারের ২০২০ সালটা ভালোভাবে শুরু হয়নি। বছরের শুরুতে তারল্য সংকটে বড় বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় থাকায় থেমে থেমে পতন চলছিল। ওই সময় বাজার ঘোরাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারল্য ঘাটতি কাটাতে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রত্যেকটির ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কম্পানি আইন অনুযায়ী বিনিয়োগসীমার বাইরে ব্যাংকের এই তহবিল গঠনে পুঁজিবাজারে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিনিয়োগ আসার বিপরীতে এখন ক্রমেই তলানিতে পুঁজিবাজার।

সর্বশেষ গত সোমবার ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠন করে গতকাল বুধবার থেকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ আসার আশ্বাস দেন ব্যাংক মালিকরা। এই ঘোষণার মধ্যে গতকাল পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। শুরুতে শেয়ার কেনার চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপে বড় পতনের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার।

ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৬৮ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি টাকা। আগের দিন সূচক কমেছিল ১৯৬ পয়েন্ট আর লেনদেন হয়েছিল ৪০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ৮৩৫ আর ডিএসই-৩০ সূচক ৬১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২০৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ৩৫৬টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩টির বা ৪ শতাংশের। কমেছে ৩৩৩টির বা ৯৪ শতাংশের। অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি কম্পানি বা ২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

করোনা আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হওয়ায় গত ৮ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে পতন চলছে। লেনদেন হওয়া আট দিনের মধ্যে ছয় দিনই মূল্যসূচক কমেছে। আর দুই দিন সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইর হিসাবে, এই সময়ে প্রধান সূচক কমেছে ১০০৩ পয়েন্ট। আর দুই দিনে বেড়েছে ২২৩ পয়েন্ট। সেই হিসাবে ডিএসইর সূচক কমেছে ৭৭৯ পয়েন্ট।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার আগে গত ৫ মার্চ ডিএসইতে সূচক ছিল চার হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট। গতকাল পর্যন্ত তা কমে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬০৩ পয়েন্ট। সেই হিসাবে গত আট দিনে সূচক কমেছে ৭৮০ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ ইতিবাচক হয়েছে। করোনা আতঙ্কে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি বেশি। আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছে কিন্তু এটা সাময়িক। এখন পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম অনেক কম। প্রতিদিন সূচক কমায় বিনিয়োগকারীর মনে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা