kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

১৪টি শাড়ি বিক্রির টাকাই নীলার প্রথম বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৪টি শাড়ি বিক্রির টাকাই নীলার প্রথম বিনিয়োগ

ছোট বেলা থেকেই চাকরি করার পক্ষপাতি ছিলেন না। স্বাধীনভাবে কিছু করার ইচ্ছে ঘুরত মনের ভেতর। ছবি আঁকার হাতে-খড়ি দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়াশোনার সময় থেকেই। ছাত্রজীবনে স্কুল ও একাডেমিতে বাচ্চাদের চিত্রাংকন শেখাতেন। নিজের ও বন্ধুদের জামা, টি-শার্টে এঁকে দিতেন নানা নকশা। পোশাক নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাটা মনে সুপ্ত ছিল। বাবা মায়ের ইচ্ছায় অর্থনীতিতে মাস্টার্স করলেও কোনদিন চাকরির জন্য কোথাও চেষ্টা করেননি। তিনি নুরুন্নাহার নীলা। একদিন নিজের বাসা থেকেই শুরু করলেন স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে নীলা তার এই সংগ্রামের গল্প শোনান। 

ভারতীয় জামা-শাড়ি খুব সহজলভ্য বলে এগুলো দিয়েই ব্যবসা শুরু করেন অনেকে। কিন্তু শুরুতে নীলা খুবই অল্প টাকায় টাঙ্গাইলে গিয়ে কিনে আনলেন ১৪ টি শাড়ি। বাসায় এসে মোবাইলে কিছু ছবি তুলে একটা পেইজ সাজালেন। অনলাইনে ১৪টি শাড়ি নিয়েই পাঁচ বছর আগে শুরু হয়েছিল ‘সাতকাহন’ নামে প্রতিষ্ঠানের পথচলা। 

বন্ধুদের সবাই ভালো চাকরি করছে। আর তিনি অনলাইনে শাড়ি বিক্রি করছেন। এ নিয়ে কিছু মানুষ সমালোচনা করলেও অধিকাংশ মানুষই উৎসাহ দিতো। আসলে আশে পাশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ-সহযোগিতার জন্যই শত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও কখনো পিছিয়ে পড়েননি নীলা। 

গুছিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেন নীলা।  ব্যবসার শুরুতেই মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করলেন। বহু ক্রেতার কাছে শাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন টাকা ছাড়াই। ক্রেতারা শাড়ি দেখে খুশি হয়ে পরে টাকা দিয়েছেন। এভাবে অল্প কিছু দিনের মাঝেই সাতকাহন লাভের মুখ দেখতে থাকে। বাড়তে থাকে অর্ডার। এক সময় একজন কর্মচারী নিয়োগ দিলেন। একবছর পর উত্তরায় নিজের আলাদা অফিস আর শো-রুম হলো সাতকাহনের। উত্তরা অনেক দূরে হয়ে যায় কাস্টমারের এমন অভিযোগের কারণে বসুন্ধরা সিটিতে সাতকাহনের দ্বিতীয় শো-রুমটি চালু করা হয়। শাড়ির পাশাপাশি নিজের ডিজাইন করা পাঞ্জাবি, ব্লাউজ, কুর্তি, গহনা, টিপ, সালোয়ার-কামিজ নিয়েও কাজ শুরু হলো। নীলা কালের কণ্ঠকে জানান, আমার ব্যবসায় প্রথম ১৪টি শাড়ির টাকাই সাতকাহনের প্রথম এবং শেষ বিনিয়োগ। 

সাতকাহনের শাড়ির সব ডিজাইন নীলা নিজে করেন। প্রতিটি বাঙালি উৎসবকে সামনে রেখে নানা আয়োজন থাকে সাতকাহনের-ডিজাইন গুলোতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। নিজস্ব তাঁতিরা রাত দিন নিরলস পরিশ্রম করে শাড়ি বুনে যান আর নিজস্ব কারখানায় চলে রঙ্গিন ডিজাইনের কাজ। অনলাইন ছাড়াও শো রুমে ক্রেতারা সাতকাহনের পন্য কিনতে পারছেন। উত্তরা সাত নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে ৬৩ নম্বর বাসায়ও শো রুম আছে সাতকাহনের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা