kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

যত্রতত্র কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে

আসাদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্সপো গ্রুপ

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন    

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যত্রতত্র কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে

ছবি : লুৎফর রহমান

স্বাস্থ্যগত সুবিধার পাশাপাশি বিছানাকে আরামদায়ক করে দেয় ম্যাট্রেস বা ফোম। তাই জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তারাও এই পণ্যের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। দেশে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন এক্সপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদ চৌধুরী, এফসিএমএ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ম্যাট্রেস বা ফোমের বাজার ৩০ কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে আমাদের কম্পানির অংশীদারি এক কোটি ২০ লাখ টাকার। দেশের বাজারে এ পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরাও ভোক্তাদের আরো কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছি উত্তরোত্তর পণ্যের মান বৃদ্ধি করে। আমরা ম্যাট্রেসে উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার করি। ফলে ভোক্তারাও এটি পছন্দ করছেন। আমরা যে ম্যাট্রেস তৈরি করি তাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। ফলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী। একজন ক্রেতা নিশ্চিন্তে আমাদের পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।’

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘দিন দিন মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন হচ্ছে, একই সঙ্গে আরামপ্রিয়ও হচ্ছে। ফলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এই পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বাসগৃহ, হোটেল, মোটেল, রেকর্ডিং স্টুডিওতে ম্যাট্রেস-ফোম ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। দেশে আমরা যেসব ম্যাট্রেস তৈরি করি তাতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় কয়ার, ফেল্ট, কাপড় ইত্যাদি। ফোম তৈরিতে টিডিআই, পলিউল, সিলিকন, এসওপিএস, পিগমেন্ট, কালার ইত্যাদি ব্যবহার হয়। এ বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগ করছি। ভোক্তার পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন পণ্য উদ্ভাবন করছি। বিছানা ছাড়াও ম্যাট্রেস ও ফোমের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। চেয়ার, সোফা, বিভিন্ন গাড়ির সিট ইত্যাদিতেও তা ব্যবহূত হয়। তাই নতুন নতুন পণ্য দিয়ে আমরা এ বাজার আরো সম্প্রসারণ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ম্যাট্রেস বা ফোমের দাম তুলনামূলক বেশি নয়, তার পরও এ বাজারকে আরো সহজলভ্য করতে আমরা কাজ করছি। যদি নিজেরা কাঁচামাল আমদানি করতে পারি তাহলে বাজার আরো সাশ্রয়ী হবে। সে ক্ষেত্রে অন্য কম্পানিগুলোর সঙ্গে বাজার সমন্বয় করতে হবে।’

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘এ খাতের বাজার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বাধাও আছে। বিশেষ করে ম্যাট্রেসের বাজারে কম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। প্রত্যেকে নিজ নিজ পলিসি অনুযায়ী বাজারজাত করছে। সমাধানের পথ হলো সব কম্পানি একসঙ্গে একটি নিয়ম বা শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে এই ইন্ডাস্ট্রির একটি কার্যকরী অ্যাসোসিয়েশন খুবই জরুরি। এ ছাড়া আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে কাঁচামালের দাম ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেন। এই সিন্ডিকেটের দিকেও সরকারের নজর দিতে হবে। কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে আমাদের মতো যারা নিয়মিত ভ্যাট ও কর দিয়ে আসছে তাদের জন্য এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর। যেখানে-সেখানে কম্পানি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আইনের তোয়াক্কা না করে স্বল্প মূল্যে বাজারে পণ্য সরবরাহ করে পণ্যের মান ও বাজার দুটিই নষ্ট করছে। তাই সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানাই এটি যেহেতু একটি উচ্চ দাহ্য পণ্য, তাই যত্রতত্র কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে করে নিমতলী ও চকবাজারের মতো কোনো ট্র্যাজেডি এ দেশে আর না ঘটে।’

এমনকি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর নামেও নকল পণ্য বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে, যদিও এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেতন। নকল প্রতিরোধে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। ট্রেডমার্ক নীতিমালাকে আরো কঠোর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা। নতুন নতুন গ্রাহকের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা