• ই-পেপার

প্রবাসীদের জন্য গৃহঋণ ‘প্রবাসবন্ধু’

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১২ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো : ১৪০ টাকা ২০ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৩৮ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ১১ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ০৭ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

পোশাক খাতের উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর জোর বিজিএমইএ’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
পোশাক খাতের উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর জোর বিজিএমইএ’র

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে বিজিএমইএ ও ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা অংশ নেন। অন্যদিকে ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিল।

সভায় তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ, যৌথ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয়পক্ষের মতে, বিদেশি মূলধন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বৈঠকে ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান কাস্টমস ও বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ওকাইবের প্রতিনিধিরা বলেন, যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সাসটেইন্যালিটি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ওকাইবের প্রতিনিধিদল সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং খাতে কাজ করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনিয়তার কথা উল্লেখ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় ওকাইবের পক্ষ থেকে সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য পুরনো জ্যাকর্ড মেশিন ফিরিয়ে নিয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন সরবরাহের একটি বিশেষ ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

জবাবে বিজিএমইএ নেতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অনেকেই চীনা অংশীদারিত্বে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ ধরনের অংশীদারিত্বের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চমূল্য সংযোজিত ও টেকসই পোশাক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে চীনা উদ্যোক্তারা আগ্রহী। ভবিষ্যতে উভয়পক্ষের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।

নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনা ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
  
গত শুক্রবার নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ রবিবারও ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা।

 নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভ্যাটসহ সোনা (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশের বাজারে এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৪ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৪ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
 

বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

আগ্রহ দেখাচ্ছে না বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ শিল্প সচল করতে দরকার নতুন ঋণ

অনলাইন ডেস্ক
বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা চালু করলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশ এখনো আবেদন গ্রহণ, সুদ মওকুফ কিংবা নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে আসেনি। অনেক ব্যাংক ঝুঁকি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, আর্থিক ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে খেলাপির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সুবিধা কার্যকরে অনীহা দেখাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিলেই হবে না। দীর্ঘদিনের মন্দা, উচ্চ সুদের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নগদ অর্থের সংকটে কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না করলে খেলাপি ঋণ আদায়ও সম্ভব হবে না।

গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে জানায় ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হবে। যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদন ব্যাংক পৃথকভাবে বিবেচনা করবে। তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে যেসব ঋণ সম্পূর্ণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলো এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণও এ সুবিধার আওতায় আসবে না। ব্যাংকাররা বলছেন, বহুদিন ধরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো নগদ অর্থ ফেরত পাবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। তবে কোনো গ্রাহককে সুবিধা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতার কথা তুলে ধরছেন ব্যাংকাররা। তাদের দাবি, সার্কুলারে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণে সুদ মওকুফের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হয়ে তা নতুন মূলধনের (প্রিন্সিপাল) অংশে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এভাবে সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা ব্যাংক আয় হিসেবে দেখিয়েছে। সেই আয়ের ওপর সরকারকে করও পরিশোধ করা হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে আয় হিসেবে গণ্য হওয়া সুদের অংশ এখন মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া ব্যাংকের পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেক ব্যাংকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বর্তমানে অধিকাংশ খেলাপি শিল্প উদ্যোক্তার হাতে এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো অর্থ নেই। অর্থ থাকলে তারা আগে নিজেদের বন্ধ কারখানাই চালু করতেন। তাদের মতে, ব্যবসা সচল না হলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হবে না। তাই ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে।

শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থায়নের অভাবে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য খাতের হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এ তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কার্যকর মূলধনের সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে নতুন অর্থায়ন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে টাকা থাকলে তারা কারখানাই চালু করত। তাই শুধু এককালীন সুদ মওকুফ করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে নতুন ঋণ দিতে হবে। এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেলে অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং ব্যাংকের খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এককালীন এক্সিট সুবিধার আবেদন এলে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই গ্রাহককে এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এককালীন এক্সিট সুবিধার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলো যেন কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়ে গ্রাহকদের এ সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি যেসব উদ্যোক্তা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে চান, তারা ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকেও ঋণ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আটকে থাকা ঋণের অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় ও প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে নীতিমালাটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও শুধু ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে কাক্সিক্ষত ফল মিলবে না। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক ঋণ আদায় তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রবাসীদের জন্য গৃহঋণ ‘প্রবাসবন্ধু’ | কালের কণ্ঠ