kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সচল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

সিঅ্যান্ডএফ’র দাবি মেনে পিছু হটল কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিঅ্যান্ডএফ’র দাবি মেনে পিছু হটল কাস্টমস

বিদেশে অর্থপাচার ও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির সাথে আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও সমানভাবে দায়ি এবং তাদের বিরুদ্ধে আমদানিকারকদের মতো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার। গত ১২ জানুয়ারি এই চিঠি পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। কিন্তু চিঠি পাঠানোর খবর পেয়ে পরদিনই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারী এসোসিয়েশন একজোট হয়ে সেটি ঠেকাতে হঠাৎ করেই কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।

আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে রাজস্ব আয়ে দেশের সবচে বড় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে অচলাবস্থা দেখা দেয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কৌশলে রাজস্ব আয় কার্যক্রমকে জিম্মি করে দিনভর অচল করে রাখে কাস্টম হাউস। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বৈঠকে বসে আন্দোলনকারীদের সাথে। আলোচনা শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অন্যায় দাবি মেনে নেয়; পরে বিকাল সাড়ে পাঁচটা কাজে যোগ দেয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এরপর থেকে সচল হয় কাস্টম হাউস।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু কালের কণ্ঠকে বলেন, অনিয়মের সাথে আমদানিকারক জড়িত থাকলেও সিঅ্যান্ডএফ জড়িত থাকে না। ফলে ঢালাওভাবে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা বলেছি, প্রথম দফা কায়িক পরীক্ষার পর দ্বিতীয়দফায়ও যদি একই পরিমান অনিয়ম ধরা পড়ে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক পদক্ষেপ নিন, জেল-জরিমানা করে আমাদের কোন তদবির-আপত্তি নেই থাকবেও না।  

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, আয়কর প্রদানে অনিয়মের কারণে কর আইনজবীদের যদি শাস্তি না হয় তাহলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কেন হবে?

আলতাফ হোসেন বলেন, কমিশনারসহ সবাই আমাদের ৮দফা দাবি মেনে নিয়েছেন। আর যেই চিঠি দিয়েছেন সেটি আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়রে সুপারিশ করেছেন। এরপর আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করি।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি মানার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলমকে ফোন দেয়া হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে অতিরিক্ত কমিশনার আকবর হোসেনকে অনেকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় কাস্টম হাউস থেকে পাঠানো আরেক চিঠিতে কমিশনার বলেছেন, ‘আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান যে পরিস্থিতি এবং তা উত্তরণের যে সুপারিশ করা হয়েছে তা এখাতের সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারার্স এবং এফবিসিসিআই প্রতিনিধি সমন্বয়ে পর্যালোচনা সভা করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের অনুরোধ করা হলো।’

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধের দাবিতে গত সোমবার দুটি সংগঠন কর্মবিরতির ডাক দেয়। এসব দাবিকে সামনে রাখলেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের নেপথ্যের দাবি ছিল কাস্টমস কমিশনারের পাঠানো চিঠি প্রত্যাহার করা। কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কমিশনারের পাঠানো চিঠির সদুত্তর মিললে অসাধু আমদানিকারক ও তাদের সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অবৈধ উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সিদ্ধান্ত আসার আগেই দুটি সংগঠন একজোট হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কোন কমিশনার অনিয়ম রোধে কঠোর হন, চোরাচালান কারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন, যতবারই ভালো কিছু উদ্যোগ নেন এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে পদক্ষেপ নেন তখনই কোন ছুতোয় আন্দোলন ডেকে বসে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন। এটা তাদের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু অসাধু আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণায়, ঘোষনার বাইরে এবং আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে আসছেন। রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আওতায় এসব চালান ধরা পড়লে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিন্তু  প্রবনতা আশানুরুপ কমছে না। এর মুল কারণ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় না। 

চিঠিতে আরও লিখা হয়, এসব পণ্য চালান ধরা পড়লে আমদানিকারকের সাথে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও সমানভাবে দায়ি। কিন্তু বিদ্যমান কাস্টমস বিধিমালায় আইনী সীমাবদ্ধতার কারণে অনিয়মের সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় না। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। একই অপরাধ একাধিকবার প্রমানিত হলে প্রয়োজনে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এর লাইসেন্স চুড়ান্তভাবে বাতিল করা প্রয়োজন বলে মনে করে কাস্টম হাউস। এজন্য কাস্টমস বিধিমালা সংশোধন করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুপারিশ করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার। দেশের সবগুলো কাস্টমস ও শুল্ক স্টেশনে একই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা