kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

নতুন মোড়কে ফ্রুটিকা জুসের যাত্রা শুরু

এএফবিএলের নতুন প্ল্যান্টে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও ধামরাই প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন মোড়কে ফ্রুটিকা জুসের যাত্রা শুরু

প্রিজারভেটিভমুক্ত ফ্রুট ডিংক উত্পাদনে আরও একটি মাইলফলক অর্জন করলো আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের (এএফবিএল) ফ্রুটিকা। আমের জুস ও কোমল পানীয় তৈরিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে ঢাকার ধামরাইয়ে নিজস্ব কারখানায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ‘অ্যাসেপটিক’ প্রযুক্তি চালু করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এশিয়ায় এ ধরনের প্রযুক্তি এটিই প্রথম। সম্পূর্ণ নতুন মোড়কে আজ ফ্রুটিকা জুসের যাত্রা শুরু হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নতুন মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অ্যাসেপটিক প্রযুক্তিতে পানীয় জীবাণুমুক্ত রাখতে তরল পণ্যকে জীবাণুমুক্ত পাত্রে রেখে প্যাকেট বা বোতলজাত করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্যাকেজিং বা বোতলজাতকরণের সময় কোনো ধরনের বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। ফলে আমের পাল্প থেকে উৎপাদিত জুসের গুণমান ৯ মাস পর্যন্ত ঠিক থাকে। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এএফবিএল-এর বর্তমান এসেপটিক ফ্রুট ড্রিংক মেশিনটি ঘণ্টায় ৫৪ হাজার বোতল স্যানিটাইজ, জীবাণুমুক্ত, ভরাট, সীল এবং লেবেলযুক্ত করতে পারে। এটি দিনে ২৫০ মিলিলিটার পরিমাপের পরিপূর্ণ ১,২৯৬,০০০টি পিইটি বোতল এসেপটিকভাবে উত্পাদন করতে পারে। 

অনুষ্ঠানে আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গ্রাহকের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে ফ্রুটিকা নতুন মোড়কে বাজারে এসেছে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এফবিএলের ফ্রুটিকা ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংক তৈরি করা হয়। একেবারে মূল উপাদান আম উত্পাদন থেকে শুরু করে ফ্রুট ড্রিংক তৈরি করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত যত্নের সাথে করা হয়। ফ্রুটিকা ব্র্যান্ডের ড্রিংক  সংরক্ষণ ও জীবাণুমুক্ত করে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এসেপটিক ও ফিলিং সিস্টেম সম্বলিত ফ্রুট ড্রিংক উত্পাদন কারখানা পুনর্নিমাণের জন্য বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে এএফবিএল।’

ঢাকার ধামরাইয়ের বারবাড়িয়ার কৃষ্ণপুরায় ৮০ একর জমির উপর আকিজের কারখানায় আনা হয়েছে জার্মানির ‘ক্রোনেস’ কম্পানির ‘এসেপ্টিক কুল ফিলিং’ মেশিন। এ মেশিন দিয়ে জুস তৈরিতে কোন প্রকার হাত লাগাতে হয় না। 

গত রবিবার কারখানা পরিদর্শনে গেলে কারখানার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব প্ল্যান্ট ) প্রকৌশলী মো. নুর ফেরদৌস জানান, তিনশত কোটি টাকা ব্যয়ে জার্মান থেকে আমদানি করা ‘এসেপ্টিক জুস প্যাকেজিং এবং ফিলিং প্লান্ট মেশিন’ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ফ্রটিকা জুস। 

উপমহাব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স) তসমিল উদ্দিন জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে জীবাণুমুক্ত ও প্রিজারভেটিভ ছাড়া জুস বাজারজাত করে আসছে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কর্তৃপক্ষ। প্রিজারভেটিভ হলো সোডিয়াম যা দিয়ে জুস অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায় তবে তা মানবদেহের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। ফলে ফ্রটিকা জুসে কোন প্রকার প্রিজারভেটিভ দেওয়া হয়না।   

তিনি বলেন, এসেপটিক পদ্ধতিতে তৈরি করা পাল্প কোন ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই দু’বছর সংরক্ষণ করা যায়। এ পাল্প থেকে তৈরি হয় ফ্রুট ড্রিংক ফ্রুটিকা, ম্যাংগোবারসহ বিভিন্ন পণ্য। 

সহকারী ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান জানান, এসেপটিক ফ্রুট ড্রিঙ্ক মেশিনটি ঘন্টায় ৫৪ হাজার বোতল স্যানিটাইজ, ভরাট, সিল এবং লেভেলযুক্ত করতে পারে। ফলে জনবলও কম লাগে। মাত্র ৩০ জন জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে এ মেশিনটি। কয়েকজন অপরেটর রয়েছেন যারা মূলত মেশিনগুলো মনিটর পর্যবেড়্গণ করছেন। এসব মনিটরেই সিগন্যাল দিচ্ছে যথাযথভাবে ফ্রুটিকা বোতলজাত হচ্ছে কি না। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা