kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সচিবালয়ে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী

রোজার আগে পেঁয়াজ আসবে ২ লাখ টন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোজার আগে পেঁয়াজ আসবে ২ লাখ টন

রমজান মাসে বাজারে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে দুই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

এ জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের সহায়তার পাশাপাশি নৈতিকভাবে ব্যবসা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন ও ব্যবসায়ী নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশীয় উৎপাদনের ওপর ভরসা না রেখে চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হোক। এ ছাড়া বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি শুল্ক ও ব্যাংকঋণের সুদ কমানোর পরামর্শ দেন তাঁরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ন্যায়সংগত মুনাফা করে ব্যবসা করতে হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন রমজান মাসের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে দুই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। টিসিবি, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপ ৫০ হাজার মেট্রিক টন করে পেঁয়াজ আমদানি করবে। রমজান মাস শুরুর আগেই এগুলো আমদানি করা হবে।’

রমজানের আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মজুদের বিষয়টি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্যের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য সব কিছু করা হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ভোজ্য তেল, ছোলা, আদা, রসুন, খেজুরসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মজুদ সৃষ্টি করা হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশে যাতে কোনো পণ্যের সংকট না হয় বা অযৌক্তির মূল্যবৃদ্ধি না হয়, সে জন্য সরকার সব কিছু করছে। এবারে পেঁয়াজ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে দেশের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করিয়েছে। দেশেই যাতে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ উৎপাদন করা যায় সে জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।’

ব্যবসায়ীদের নৈতিক হওয়ার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন আহ্বান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি এনায়েত উল্ল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে ব্যবসায়ীদের নৈতিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিযোগিতার কারণেই তাঁদের সৎ থাকতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো হাত থাকে না।’

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন সাবেক বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) তপন কান্তি ঘোষ, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্তি সচিব) বাবলু কুমার সাহা, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, আমদানিকারক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা