kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

চার মাসেই ৮১ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

বেসরকারিতে ৭ বছরে সর্বনিম্ন

জিয়াদুল ইসলাম    

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার মাসেই ৮১ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছেই। গত নভেম্বরে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০.০৪ শতাংশ। এটি গত ৭ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী রয়েছে। তবে বেসরকারিতে কমলেও অস্বাভাবিক বাড়ছে সরকারের ব্যাংকঋণ। চলতি অর্থবছরের চার মাসেই সরকারের ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। এটি পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণের আধিক্য ও তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে ধীরে চলো নীতিতে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংকই শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ ছাড়া উচ্চ সুদসহ আরো কিছু কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারাও ব্যাংকঋণের চাহিদা করছেন কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকেই প্রতি মাসে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে বেসরকারি ঋণের। জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৩.২০ শতাংশ। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১২.৫৪ শতাংশ, মার্চে ১২.৪৪ শতাংশ এবং এপ্রিলে ১২.০৭ শতাংশ নেমে আসে। এরপর মে মাসে সামান্য বেড়ে ১২.১৬ শতাংশে উন্নীত হলেও জুন থেকে আবার টানা কমতে থাকে বেসরকারি ঋণ। গত জুনে ১১.২৯ শতাংশ, জুলাইতে ১১.২৬ শতাংশ, আগস্টে ১০.৬৮ ও সেপ্টেম্বরে ১০.৬৬ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রেকর্ড ২৫.৮৪ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কমে হয় ১৯.৬৮ শতাংশ। এরপর টানা তিন অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ আরো নাজুক অবস্থায় পৌঁছায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ১০.৮৫ শতাংশ। পরের অর্থবছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে হয় ১২.২৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা আরো কিছুটা বেড়ে হয় ১৩.১৯ শতাংশ। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে ঋণ প্রবাহের গতি অনেকটাই জোরদার হয়। ওই অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬.৭৮ শতাংশ। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। ওই অর্থবছরে এ খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ১৫.৬৬ শতাংশে। যদিও এর পরের অর্থবছরেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে হয় ১৬.৯৪ শতাংশ। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এটি রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ১১.২৯ শতাংশে নেমেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসেই সরকার ঋণ নিয়েছে ৩৮ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র চার মাসেই সরকার পুরো অর্থবছরের ৮১ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে। এ সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। বাকিটা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

সাধারণত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত নিরুৎসাহী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এতে ব্যাংকের ঋণযোগ্য তহবিল সরকারের কাছে আটকা পড়ে এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা চাহিদানুযায়ী ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এতে ঋণের সুদহারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য অর্থনীতিবিদরা বরাবরই ব্যাংক থেকে যতটা সম্ভব কম ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়। এ অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ। আর ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১.৩ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা