kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

এবার বেলজিয়াম থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার বেলজিয়াম থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ

মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও চীনের পর এবার বেলজিয়াম থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ। ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম থেকে ১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য চট্টগ্রামের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর থেকে আজ রবিবার আমদানি অনুমতি পত্র নিয়েছে ঢাকার এক আমদানিকারক। ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম থেকে সমুদ্রপথে এই পেঁয়াজের চালান চট্টগ্রাম পৌঁছতে একমাস সময় লাগবে। 

পেঁয়াজের বাজার বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার পর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দরদামের খোঁজখবর নেন। ভারতের পাশের পাকিস্তান থেকে শুরু করে এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ উজবেকিস্তান পর্যন্ত পেঁয়াজের খোঁজ নিচ্ছেন। 

ভারতের ২৯ সেপ্টেম্বর রপ্তানি বন্ধের পর প্রথমে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়েও মিয়ানমার থেকে কন্টেইনারে করে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এরপর অক্টোবরের মধ্যভাগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পেঁয়াজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। পেঁয়াজ আনা হয়েছে ইউরো-এশিয়ার দেশ তুরস্ক, এশিয়ার দেশ পাকিস্তান ও চীন থেকে। এরপর আমদানির অনুমতিপত্র নেয়া হয় মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান থেকে। এবার আমদানির জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছে বেলজিয়াম থেকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের উপ পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ একদিনেই ৪ হাজার ৩৬৫ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। এরমধ্যে এক হাজার টনের একটি অনুমতি নেয় ঢাকার প্রতিষ্ঠান ওয়াসিফ ট্রেডিং। 

তিনি বলছেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধের পর নতুন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এরমধ্যে বেলজিয়াম ও উজবেকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ দেশে প্রথম। 

ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়াসিফ ট্রেডিংয়ের পণ্যছাড়ের প্রক্রিয়ার জন্য সিঅ্যান্ডএফ হিসেবে কাজ করছেন চট্টগ্রামের এস হোসেন এন্ড কম্পানির আশিষ নাথ। 

তিনি আজ রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউরোপ থেকে প্রথমে দুবাই বা সিঙ্গাপুর বন্দর আসবে, এরপর চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত কন্টেইনারভর্তি পেঁয়াজের চালানটি পৌঁছতে সময় লাগবে একমাস। আজ রবিবার চালানের ঋণপত্র খোলা হবে। এরপর নিশ্চিত হতে পারবো কোন পথে চালান আসবে।

তিনি বলেন, চীনের চেয়েও কমদাম পেয়েই আমদানিকারক বেলজিয়াম থেকে পেঁয়াজের বুকিং দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমদানির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা পেঁয়াজের আমদানি অনুমতি পত্র দেয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ। এরপর আমদানিকারক সেই অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যাংক থেকে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলে। এরপর রপ্তানিকারক দেশ থেকে পণ্য জাহাজীকরণ হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। বন্দরে আনার পর পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। এরপর বিষমুক্ত এবং দেশের উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর কিছু নেই এমন বিষয় নিশ্চিত হয়েই পণ্য ছাড়ের অনুমতি দেয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ। সেই ছাড়পত্র দিয়ে বন্দর থেকে পণ্যছাড় নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের হিসাবে, ভারত রপ্তানি বন্ধের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত পেঁয়াজ আনতে চট্টগ্রাম দপ্তর থেকে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) নেওয়া হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৪২ টনের। আর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে রবিবার পর্যন্ত বন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৮ টন। আজ রবিবার একদিনেই ছাড় হয়েছে ৪১৩ টন। 

এই আমদানির পাশাপাশি টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়েও মিয়ানমার থেকে ৩৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে দেশে। আদা-রসুন জাতীয় পণ্য ২০ বছর ধরে আমদানি করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ফরহাদ ট্রেডিংয়ের মালিক নুর হোসেন। 

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারত থেকে অন্তত আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির নিষেধাজ্ঞা দিলেই দেশের বাজারে পেঁয়াজে সয়লাব হবে। তখন কোন আতঙ্ক থাকবে না। এরপর ব্যবসায়ীরা নিজের উদ্যোগেই বিভিন্ন দেশ খুঁজে পেঁয়াজ আমদানি করবেন। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা আগে দরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা