kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শাহজালালে প্লেনে উঠিয়ে ফের নামানো হলো যাত্রীদের

এয়ারএশিয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটিতে ২৬ ঘণ্টার ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এয়ারএশিয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটিতে ২৬ ঘণ্টার ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান্ত্রীক ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী এয়ারএশিয়ার একে-৭০ ফ্লাইটের যাত্রীরা। এতে অনেকেই নির্ধারিত কাজে যোগ দিতে পারেননি। আবার ব্রুনাইগামী কয়েকজন শ্রমিকর কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে পারেননি। বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানটির কর্মীদের ব্যাপক বাকবিতণ্ডা হলেও ২৪ ঘণ্টা পরও ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। এতে ফ্লাইট পরিবর্তন, লাগেজ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজেট এয়ারলাইন্সটির যাত্রীরা। আজ রাত সাড়ে ১২টায় অন্য একটি ফ্লাইটে এসব যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার কথা।  

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এয়ারএশিয়ার এয়ারবাস-৩২০ এয়ারক্রাফটি ঢাকা থেকে ছেড়ে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায় কুয়ালালামপুর পৌঁছানোর কথা ছিল। সেই অনুযায়ী যাত্রীদের বোডিং, চেকিং এবং ইমিগ্রেশন করানো হয়। পরবর্তীতে যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। এরপর কেবিন ক্রুরা বলেন, বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষের সমস্যার কারণে তারা যেতে পারছেন না। রাত ১টা ৩৯ মিনিটে এক পর্যায়ে যাত্রীরা হৈ চৈ শুরু করলে পাইলট উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন। ঘোষণা অনুযায়ী যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয় এবং বলা হয় যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে উড়োজাহাজ ছেড়ে যাবে। সবাইকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

উড়োজাহাজের যাত্রী কামরুন নাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, ২৪ ঘণ্টা এক কাপড়ে হোটেলে বসে আছি। লাগেজ না দেওয়ায় দুর্বিসহ সময় কাটছে। মালয়েশিয়া সরকারের হেলথ ট্রাভেল কাউন্সিলের আমন্ত্রণে মেডিক্যাল ট্যুরিজম বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আজ আমাদের কুয়ালালামপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, সব ভণ্ডুল হয়ে গেছে। আমি রিটার্ন টিকেট পেছাতে চেয়েছিলাম, এয়ারএশিয়ার পক্ষ থেকে আমার কাছে ১৮০০ রিঙ্গিট (৩৬ হাজার টাকা) দাবি করেছে।   

তিনি বলেন, আমাদের উড়োজাহাজে উঠিয়ে প্লেন না ছাড়াতে ক্রুকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ডকুমেন্টেশনের সমস্যা, আমাদের কোন সমস্যা না। ঘণ্টাখানেক পর পাইলট ঘোষণা দিলেন সবাইকে নামতে হবে, এয়ারক্রাফটে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। আজকে যাবে না। আমরা ভেবেছিলাম দুই-এক ঘণ্টা পর ঠিক হয়ে যাবে। অনেক রাত হয়ে যাওয়াতে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডায় এয়ারএশিয়া কর্মকর্তারা বলেন, কারা হোটেল, কারা বাসায় চলে যাবেন বলেন। ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট ডিলে এটা ভাবতেই পারছি না, আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেকে কানেক্টিং ফ্লাইট মিস করেছে। ব্রুনাইতে প্রথমবার যাচ্ছিল কিছু শ্রমিক, তাদের অনেক সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। যাদের এতো এয়ারক্রাফট তাদের কেন স্ট্যান্ডবাই প্লেন এনে আমাদের নিয়ে গেল না। আমার অনুষ্ঠান মিস হলো এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   

জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদ-উল- আহসান আজ বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, এয়ার এশিয়ার মালয়েশিয়াগামী একে-৭০ ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে এখনো ছাড়তে পারেনি। এতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো সমস্যা ছিল না। এটা তাদের সমস্যা। তাদের এয়ারক্রাফটি ৬ নম্বর পার্কিং বেতে ছিল। রাত ১টা ৩৯ মিনিটে পাইলট জানান, ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একারণে তারা যাবে না। পরে আমাদের টাওয়ার থেকে জানানো হয় ৬ নম্বর বে ছেড়ে ২ নম্বরে যেতে। এখন পর্যন্ত এয়ারক্রাফটি সেখানেই আছে। আমরা জানতে পেরেছি আজ রাত ২টায় এটি ছেড়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে এয়ারএশিয়ার ঢাকা অফিসের নম্বরে বার বার ফোন করে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

২০১৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট অপারেশন শুরু করে। এয়ারবাস ৩২০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে মালয়শিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা থেকে প্রথমে কুয়ালালামপুর হয়ে ১৬০টি গন্তব্যে যায় তারা। ঢাকা-কুয়ালালামপুর সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা