kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম বন্দরে কমে এসেছে জাহাজজট

১০ গ্যান্ট্রি ক্রেনে পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু এনসিটিতে

♦ দেড় মিলিয়ন একক পণ্য ওঠা-নামা করতে পারবে ♦ বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই সামাল দিতে পারবে এনসিটি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ গ্যান্ট্রি ক্রেনে পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু এনসিটিতে

চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মিত হয়েছিল ২০০৭ সালে; উদ্দেশ্য ছিল ১০টি ‘কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করে বন্দরের পণ্য ওঠানামা দ্রুত করা। ক্রেন কেনা দূরে থাক, এনসিটি কিভাবে চলবে সেই সিদ্ধান্ত নিতেই ২০১৭ সাল পর্যন্ত পার করেছে বন্দর। অথচ মাত্র দেড় বছরেই নতুন ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনে বন্দরের বহরে যুক্ত করে চালু করতে পেরেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়েই পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু হয়েছে এনসিটিতে। মূলত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বন্দর চেয়ারম্যানের আন্তরিকতার কারণেই এই চ্যালেঞ্জিং কাজ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে সঠিক সময়ে এই ১০টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করা ছিল আমার জন্য অসম্ভব চ্যালেঞ্জিং। মূলত বর্তমান সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছার কারণেই আমার পক্ষে কাজটি করা সম্ভব হয়েছে। নতুন জেটি-টার্মিনাল নির্মাণের আগ পর্যন্ত বিদ্যমান টার্মিনালে গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ করে প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়ার কোনো বিকল্প ছিল না; সেটি করতে সক্ষম হয়েছি। যে হারে দেশ এগোচ্ছে সেই গতিতে বন্দর আগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; তার বাস্তবায়নও হচ্ছে।’

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৭ সালে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে সাত শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল সর্বাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল। ১০টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করে ক্রেনবিহীন জাহাজ ভিড়িয়ে দ্রুত পণ্য ওঠানামা করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করতে না পারায় এত দিন ক্রেনযুক্ত জাহাজ দিয়েই এনসিটিতে পণ্য ওঠানামা হতো। নতুন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ যোগদানের পর নানা উদ্যোগ নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে ১১ বছর পর ২০১৮ সালে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরের বহরে যুক্ত করতে সমর্থ হন। ২০১৮ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে এসেছিল নতুন ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে এসেছে আরো চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।

উল্লেখ্য, এনসিটি টার্মিনালে মোট পাঁচটি জেটি রয়েছে, এর মধ্যে একটি জেটি ঢাকার পানগাঁও টার্মিনালের পণ্য ওঠানামার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। বাকি চারটি জেটিতে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানামা চলছে। নতুন চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন এনসিটিতে যুক্ত করে পণ্য ওঠানামা শুরু হয়েছে গত ২৫ আগস্ট থেকে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের মহাপরিকল্পনায় বলা ছিল, এনসিটিতে ১০টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হলে এক মিলিয়ন একক কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে। কিন্তু ছয়টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করেই আমরা সেই পরিমাণ ওঠানামা করে ফেলেছি। এখন মোট ১০টি দিয়ে দেড় মিলিয়ন একক ওঠানামা করতে পারব। ফলে বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই সামাল দিতে পারবে এনসিটি।’

‘তবে শুধু কনটেইনার ওঠানামা দ্রুত হলেই হবে না, এর পুরোপুরি সুফল পেতে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে বন্দরে দ্রুত কনটেইনার আনা নিশ্চিত করতে হবে; বন্দরের ভেতর কনটেইনার রাখার স্থান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের ভেতর থেকে এফসিএল বা কনটেইনার থেকে পণ্য খুলে ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। এসব কাজ দ্রুত করতে আমরা কাজ করছি’, যোগ করেন এনামুল করিম।

মাত্র দেড় বছরে ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনে পণ্য ওঠানামায় যুক্ত করাকে চট্টগ্রাম বন্দরের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিদেশি শিপিং কম্পানি পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর। তিনি বলছেন, গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো যোগ না হলে এই বছর জাহাজজট ভয়াবহ আকার ধারণ করত। এখন গিয়ারলেস জাহাজের জট একেবারে কমে আসার কারণই হচ্ছে গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়া। তিনি পরামর্শ দেন পানগাঁও জাহাজের জন্য এনসিটি-১ বরাদ্দ না রেখে এনসিটি-৫ বরাদ্দ রাখলে আরো বেশি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ হলে যে দক্ষতা বাড়ার কথা সেটি এখনো আসেনি। প্রথম দফায় যুক্ত হওয়া ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই একটি মেরামতে চলে যাচ্ছে। একবার মেরামতে গেলে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা সেটির কাজ বন্ধ থাকছে; বন্দরে পণ্য ওঠানামায় কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। এই মেরামতকে সীমিত পর্যায়ে আনার দাবি করেছেন তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা