kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

তিন মাসেই প্রবাসী আয় ৩৮ হাজার কোটি টাকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন মাসেই প্রবাসী আয় ৩৮ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৪৫১ কোটি চার লাখ ডলার বা ৩৮ হাজার ১১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা) গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এসেছিল ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ ডলার বা ৩২ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.৫৮ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রণোদনা ঘোষণায় রেমিট্যান্স বাড়ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। সেসব দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা এখন বেশি মজুরি পাচ্ছেন, বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসাবে জুলাইয়ে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে গত মে মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সুবাতাস বইছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬.৫৮ শতাংশ বেশি। আর সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

নতুন বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে দুই টাকা প্রণোদনা পাবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসংক্রান্ত একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ৬ আগস্ট তা প্রকাশ করে বলা হয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা পেতে এক হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এই অঙ্কের বেশি হলে প্রাপককে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে। আর ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের কপি দাখিল করতে হবে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে ৯.৬ শতাংশ এবং অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক বছরে এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। দেশের জিডিপিতে তাঁদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা