kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বন্দরে, এক দিনেই এলো ৫৩৬ টন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বন্দরে, এক দিনেই এলো ৫৩৬ টন

ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এখন একমাত্র ভরসা মিয়ানমারের পেঁয়াজ। গত রবিবার বিকেল থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামেও কোনো ভারতীয় পেঁয়াজবাহী গাড়ি ঢোকেনি। ফলে আড়তে সরবরাহ মেটাচ্ছে শুধু মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

আর গতকাল সোমবার এক দিনেই টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢুকেছে রেকর্ড পরিমাণ ৫৩৬ টন। এর আগে একসঙ্গে এত পেঁয়াজ ঢোকেনি। এসব পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ট্রাকে করে সরাসরি দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছে।

টেকনাফ ছাড়াও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢুকছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। গত রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনারে দুটি চালানে ঢুকেছে ১৭৪ টন। একই সঙ্গে বন্দর দিয়ে ঢুকেছে মিসর থেকে আসা ১৪৫ টন পেঁয়াজও।

চালানটির আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ মারকো ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আকরামুল হক ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমার ও মিসর থেকে মোট ১১টি কনটেইনার পেঁয়াজ গতকাল জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে নেমেছে। এর মধ্যে চার কনটেইনার গত রাতেই বন্দর থেকে সরবরাহ করা হয়েছে, বাকিগুলো আজ সরবরাহ করা হবে।’

তিনি বলেন, ১১ কনটেইনারে মোট ৩১৯ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে বন্দরে। দেশ দুটি থেকে আরো পেঁয়াজ আসছে।

এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ঢুকেছে রেকর্ড পরিমাণ। টেকনাফ কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা বিকাশ কান্তি বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবরে গতকাল সোমবার এক দিনেই টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ৫৩৬ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে। গতকাল বন্দরে পাঁচটি কাঠের জাহাজে এই পেঁয়াজ আসে; দিনে দিনেই আমরা সেগুলো ছাড়ের কাজ সম্পন্ন করি।

তিনি বলেন, ‘টেকনাফ থেকে আগস্ট পুরো মাসে ৮৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আর ভারতে দাম বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজার ৭৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ভারতে রপ্তানি মূল্য বাড়ার পর স্থলবন্দরে এখন শুধু পেঁয়াজ আর পেঁয়াজ। রপ্তানি বন্ধের খবরে পেঁয়াজ আমদানি আরো বেড়ে যাবে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উপকমিশনার আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে দুটি চালানে ১৪০ টন পেঁয়াজ কনটেইনারে করে মিয়ানমার থেকে এসেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে একটি চালান এসেছিল। পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ককর নেই বলে বাজার স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা দ্রুত ছাড়ের অনুমতি দিয়েছি।

এদিকে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য সাড়ে ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের পর থেকেই টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসা শুরু হয়। মিয়ানমার থেকে ছোট কাঠের জাহাজে এসব পেঁয়াজ টেকনাফ পৌঁছে; সেখান থেকে স্থলপথে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাজার অস্থির হওয়ার পর মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসায় অনেকটাই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

এদিকে ভারত থেকে গত রবিবার বিকেল থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ায় চট্টগ্রামে ভারতীয় কোনো পেঁয়াজ ঢোকেনি গতকাল পর্যন্ত। মিয়ানমার থেকেও বেশির ভাগ পেঁয়াজ চট্টগ্রামে না ঢুকে সরাসরি ঢাকায় চলে যাচ্ছে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান বাদশা বলছেন, মিয়ানমারের আটটি ট্রাক সকালে ঢুকেছে কিন্তু কাড়াকাড়ি করে মুহূর্তেই বিক্রি শেষ। কারণ আমাদের প্রয়োজন ৩০০ ট্রাক বিপরীতে এসেছে মাত্র আটটি ট্রাক। সুতরাং বাজারে কেউ কেজি ৯০ টাকা আবার কেউ ১১০ টাকাও বিক্রি করেছেন। তিনি পরামর্শ দেন, সরকারের উচিত আতঙ্ক সৃষ্টি না করে আসল ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিতে উৎসাহী করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা