kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

কেজি ৪৫০ টাকা

বাজারে অসময়ে দেশি আম

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে অসময়ে দেশি আম

বাজারে এসেছে দেশি আম ‘থাই চোষা’। নগরের কাজির দেউড়ি বাজারে গতকাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশি আমের মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগে। মৌসুমের শেষদিকে ছিল দেশি আম আশ্বিনী। সেটির বিক্রিও শেষ হয়েছে প্রায় একমাস আগেই। আশ্বিনীর পর প্রথমবার বাজারে এসেছিল আরেক দেশীয় আম ‘বারি-৪’। দাম ও মান ভালো থাকায় সেই আম বিক্রি করে এবার ভালো ব্যবসা করেন ব্যবসায়ীরা। সেই আম বিক্রি শেষ হয়েছে কোরবানির ঈদের পর।

আম না থাকার সুবাদে এতদিন রাজত্ব করেছিল ভারত থেকে আমদানিকৃত ‘চোষা আম’। অফসিজন বা অসময়ের আম হিসেবে বেশ ভালোই বাজার দখল করেছিল চোষা আম; দামও ছিল চড়া। গত ১৫ দিন ধরে সেই আমও নেই। আমশূন্য বাজারে গতকাল রবিবার হঠাৎ দেখা মেলে নতুন জাতের দেশীয় আম। নাম ‘থাই চোষা’।

চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি বাজারের মেসার্স বিছমিল্লাহ ফ্রুটস সেন্টারে পাতাসহ তরতাজা এই আম বিক্রি হতে দেখা গেছে। দোকানের সামনে আমভর্তি খাঁচাগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। দেখতে অনেকটা চোষা আমের মতো হলেও হলুদ রঙের আমগুলো দেখতে লোভনীয়, স্বাদেও মিষ্টি।

জানতে চাইলে দোকানের মালিক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতীয় চোষা আমের পর বাজার আমশূন্য ছিল। মাসখানেক পর আমদানি হয়ে বাজারে আসে মিশরের আম কিন্তু সেই আমের দাম অনেক বেশি থাকে। বাজারশূন্য আমের এই অসময়ে গতকাল এসেছে দেশি জাতের থাই আম। আমরা ‘থাই চোষা’ আম বলেই বিক্রি করছি। কেজি সাড়ে চারশ টাকা হলেও তরতাজা দেখে কিনছেন অনেকেই।’

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে চট্টগ্রামে আমের আড়ত বিআরটিসি ফলমণ্ডি বাজারে ছুটে যাই। সেখানে আটটি ক্যারেট বা খাঁচা আম কিনে এনেছি ৭৫ হাজার টাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে এই আম চট্টগ্রামে এসেছে প্রথমবার। আমিও বিক্রি করছি প্রথম।’

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআরটিসি মার্কেটের মাত্র একটি আড়তেই এই আম আনা হয়েছে কানসাট থেকে। বেচা-বিক্রি কেমন হয়  বোঝতে পরীক্ষামূলকভাবেই আনা হয় এই আম।

জানতে চাইলে মেসার্স রুপিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুব বেশি নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজার থেকে বাসে করে এই আম চট্টগ্রামে আমার আড়তে আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আড়তে এই মুহূর্তে দেশি-বিদেশি কোনো আম নেই। ফলে অফসিজনের আম হিসেবে মুহূর্তেই বিক্রি শেষ। কানসাটের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, থাইল্যান্ড থেকে বীজ এনে সেই বাগানে বড় পরিসরে কানসাটের এক বাগানে রোপণ করা হয়েছে এই আম। এবার আরও কিছু আম আসবে। তবে আগামী বছর থেকে বড় পরিসরে উৎপাদিত হয়ে বাজারে আসবে এই আম।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অসময়ের এই আম চাষ করলে বেশ ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু আম না থাকায় আমদানি করেই বাজার চাহিদা মিটছে।

বাজারশূন্য আমের এই সময়ে প্রতিবছর মিশর ও থাইল্যান্ড থেকে আম আমদানি করেন ফলমণ্ডি বাজারের আল মদিনা স্টোরের কর্ণধার নাজিম উদ্দিন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে আম না থাকায় আমরা বিদেশ থেকে আম আমদানি করি। এবারও মিশর থেকে আম আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি, সেপ্টেম্বর শেষদিকে ফলমণ্ডি আড়তে সেই আম পাওয়া যাবে। এর পর থাইল্যান্ড থেকে আম আনব।’

তিনি জানান, দেশীয় জাতের আম বাজারে থাকলে বিদেশ থেকে আম আমদানি করে বাজার ধরা যাবে না। আম নেই কিন্তু চাহিদা আছে বলেই আমদানি হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা