kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কোটা সুবিধা বাড়ল ১০ শতাংশ

আইপিওতে স্থির মূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা বেড়ে ৫০%

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কোটা সুবিধা বাড়ল ১০ শতাংশ

মন্দাবস্থার কারণে পুঁজিবাজারে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। ক্রমাগত লোকসান ও পুঁজিবাজার গতিশীল না হওয়ায় শেয়ার লেনদেনের বিও হিসাব বন্ধ করে বাজার ছাড়ছেন তাঁরা। তবে আইপিওতে কোটা সুবিধা বাড়িয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনে আগ্রহী কম্পানির শেয়ার বরাদ্দে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, মূলধন বেশি না হলেও পুঁজিবাজারে সংখ্যার দিক থেকে বেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সংখ্যায় কম হলেও বিনিয়োগ অনেক বেশি। তাই পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের স্থির মূল্য ও বুক বিল্ডিং দুই পদ্ধতিতেই সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ এখন থেকে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ বেশি শেয়ার বরাদ্দ পাবেন। এই সুবিধা বাস্তবায়ন হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা সুবিধা আরো বাড়ানো দরকার। তাঁদের মতে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা ৮০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর ফান্ড ছোট হলেও অনেক ফান্ড একত্র করলে বড় বিনিয়োগ হয়। আর সেটাই করছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে আইপিওতে সুবিধা কম থাকায় আস্থাহীনতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিও হিসাব বন্ধ করে বাজার ছেড়েছেন।

পুঁজিবাজারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছে। ২০১০ সালে ধসের পর একটি বড় অংশ পুঁজিবাজার ছেড়েছে। গত তিন বছরেও ২০১৬ সাল থেকে ছয় লাখের বেশি বিনিয়োগকারী হিসাব বন্ধ করে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন।

ইলেকট্রনিক শেয়ার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশের (সিডিবিএল) তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সেকেন্ডারি মার্কেট ও একটি অংশ প্রাইমারি মার্কেটে বা আইপিওতে বিনিয়োগ করে। কোনো কম্পানি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন করা কম্পানির শেয়ার বরাদ্দ পেতে আইপিও আবেদন করে। সেখান থেকে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করেই মুনাফা পান বিনিয়োগকারীরা।

সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর যাবৎ পুঁজিবাজারে কম্পানি আসা কমেছে। আর প্রাইমারি মার্কেটে আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ না পেয়ে হতাশায় বাজার ছেড়েছেন। সিডিবিএলের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ জুন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৩টি। তবে তিন বছর ব্যবধানে বিনিয়োগকারী কমেছে ছয় লাখ ৪১ হাজার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৪৮ হাজার।

বিএসইসি সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বেশি হলেও তাঁদের বিনিয়োগ অনেক কম। তবে বাজার নিম্নমুখী হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী না জেনে, না বুঝেই শেয়ার বিক্রি করেন। আর বিক্রি বেড়ে গেলে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ না পাওয়া অন্যতম কারণ। যার জন্য ক্ষুদ্র বা সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য কোটা সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

স্থির মূল্য ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলনে আগ্রহী কম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা বাড়িয়ে পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধন করেছে কমিশন। এই কোটা সুবিধায় সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে।

পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী, স্থির মূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো কম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ পেত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে কোটা সুবিধা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ না দেখে বড় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে সবাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা