kalerkantho

বাণিজ্য বাঁধা দূর হলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্য বাঁধা দূর হলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

উজবেকিস্তান সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ উজবেকিস্তানসহ সিআইএসভুক্তদেশ-আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, আরমেনিয়া, মলডোভা, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান বাণিজ্য বাঁধা দূর হলে রফতানি কয়েকগুণ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে উজবেকিস্তান টেক্সটাইল এন্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন আয়োজিত উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স এবং ৫ দিনব্যপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, আইএলও ও আইএফসির প্রতিনিধিগন বক্তব্য রাখেন। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির হাল নাগাদ তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং তাতে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাশিয়া সফরের আগে তাসখন্দ সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু বাণিজ্য বাঁধার কারণে প্রত্যাশা মোতাবেক পণ্য উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রফতানি হচ্ছে না। জটিলতা নিরশনে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চান তিনি।

উল্লেখ্য, সিআইএস ভুক্ত দেশ সমুহের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত মে মাসে ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে রফতানি করেছে ২৯ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য,একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ১৯৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

এর আগে সোমবার উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র।আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশী বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।ইতোমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া, জাতপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তনের চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ছাড়াও পর্যটন, যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংরাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগের আহবান জানান।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি এবং উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। উজবেকিস্তানের পক্ষ থেকে চেম্বারের সভাপতি আধামইকরামভ ছাড়াও বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লাজিজ কুদরাতভ ও উজবেকিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইনন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক সারদোরকারিয়েভ বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় উভয় পক্ষ দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা