kalerkantho

নাটোরের আড়তগুলোতে চামড়ার স্তূপ

সাড়া নেই ট্যানারি মালিকদের

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর    

২২ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাড়া নেই ট্যানারি মালিকদের

ঈদুল আজহার কোরবানি করা পশুর চামড়া এরই মধ্যে নাটোরের আড়তগুলোতে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো কোনো ট্যানারি মালিকরা চামড় কিনতে আসেনি। খুচরাভাবে কিছু চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী কেনাবেচা চলছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে বৈদ্যবেলঘরিয়া চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। তবে ট্যানারি মালিক বা তাদের প্রতিনিধিরা চামড়া কিনতে না আসায় বেচাকেনা সেভাবে শুরু হয়নি। চামড়া ব্যবসায়ীরা আড়তগুলোতে চামড়া জমা করেছে বিক্রির জন্য।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সহসভাপতি লুৎফর রহমান লাল্টু জানান, ঈদের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নাটোরে মূলত চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। তখন বিভিন্ন ট্যানারি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা চামড়া কেনা শুরু করে। বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া আসা শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ উত্তর পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩০টি জেলা থেকে চামড়া নাটোরে আসবে।

আড়তদার মঞ্জুরুল আলম হিরু জানান, আজ (২২ আগস্ট) শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকায় বাংলাদেশ র হাইড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। ওই বৈঠক ফলপ্রসূ হলে বাংলাদেশের চামড়া বাজারের অস্থিরতা কেটে যাবে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বর্গফুট এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা বর্গফুট অনুসারে বিক্রি হচ্ছে। মহিষের চামড়াও সরকার নির্ধারিত মূল্যেই কেনা হচ্ছে।

নাটোরের বড় বড় কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা জানায়, বেশির ভাগ আড়তদার বর্তমানে মূলত কমিশনভিত্তিক চামড়া কেনাবেচা করে। তারা চামড়াপ্রতি একটি কমিশন পেয়ে থাকে। সুতরাং লাভ-লসের ব্যাপারটি নির্ভর করে যারা চামড়া নিয়ে আসছে অথবা যারা চামড়া কিনছে।

হিরু আরো বলেন, একসময় আমাদের দেশ থেকে ওয়েট ব্লু চামড়া বিদেশে রপ্তানি করা হতো। তখন ছিল চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণযুগ। কিন্তু ’৯০-এর দশকে ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকেই দেশের বিশাল কাঁচা চামড়ার বাজার ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাদের বেঁধে দেওয়া দামের বাইরে আমরা চামড়া কিনতে পারি না। ফলে চামড়ার বাজারে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, বাকিতে আর আমরা চামড়া বেচতে চাই না। কারণ গত চার বছরের বকেয়া এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

রকিব উদ্দিন কমল নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় শ্রমিকের অভাবে কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে। কারণ এই গরমের সময় চামড়াগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে তা পচে যায়। তবে সেটার পরিমাণ খুবই অল্প।

নাটোরের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা জানায়, এ বছর পুঁজি স্বল্পতার কারণে তারা চামড়া ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তাদের টাকায় ট্যানারি মালিকরা দামি গাড়ি ও বাড়িতে বসবাস করে। অন্যদিকে টাকার অভাবে তারা ব্যবসা করতে পারে না।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহ মোহাম্মাদ রিয়াজ বলেন, আমরা চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার আহ্বান জানিয়েছি। যাতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং নাটোরের চামড়া ব্যবসার যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুণ্ন থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা