kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ববাজারে চামড়াশিল্প রপ্তানির সঙ্কট গুণগত মান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ২২:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববাজারে চামড়াশিল্প রপ্তানির সঙ্কট গুণগত মান

দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ভালো অবস্থানে থাকলেও সম্ভাবনাময় পাদুকাশিল্প এখনো পিছিয়ে রয়েছে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, উদ্যোক্তারা পরিবেশগত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রাখার পাশাপাশি ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করলে বিদেশি ক্রেতাদের পেছনে ছুটতে হবে না। তারাই বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কিনতে আসবেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।

রবিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড (ইডব্লিউএমজিএল) মিলনায়তনে দৈনিক কালের কণ্ঠ আয়োজিত ‘ফুটওয়্যার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজনরা তাদের মতামত প্রদান করেন।

গোলটেবিল আলোচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল হালিম বলেন, এক সময় কাঁচা চামড়া রপ্তানি হতো। এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে কারখানায় এর জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ শিল্পের ব্যাপারে কোনো নীতিমালা ছিল না। এখন আমরা নীতিমালা করেছি। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী চাইছেন এ শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরি করতে। এজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চামড়াশিল্প রফতানির জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড রক্ষা করা, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে কাজ করা।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, দুয়েকটি সমস্যার কারণে দেশের সম্ভাবনাময় পাদুকাশিল্প টেকসই অবস্থায় যেতে পারবে না, এটা হতে পারে না। আমাদের নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজম বলেন, এ শিল্পের পরিবেশগত সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে যাওয়াটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্জ্য পরিশোধন নিয়ে, চামড়াতে কত কম পরিমাণ পানি দেওয়া যায় বা লবণ কমানোর বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে লেদার স্টুডিও, প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য জমি খোঁজার কাজ চলছে। আগামী ২০২১ সালেই যেন এ শিল্প থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসে এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে সরকার কাজ করছে।

জেনিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির খান বলেন, এক সময় বিশ্বের নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলো আমাদের এখান থেকে পণ্য আমদানি করতো। এখন তারা আসতে চায় না। আমাদের যুবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটা কারখানা এখনো লোকসানে আছে। এখান থেকে উঠতে হলে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করতে হবে।

দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। কি-নোট উপস্থাপন করেন ওরিয়ন ফুটওয়্যারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মোল্লা। 

সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুত সমিতির দপ্তর সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, ওয়াকার ফুটওয়্যারের চিফ অপারেটিং কামরুল হাসান, ফারস্কিন লেদারটেকের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইজাবুল হক প্রমুখ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা