kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য অর্জন উদযাপন করল জিএসকে-কেয়ার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ২১:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য অর্জন উদযাপন করল জিএসকে-কেয়ার

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি ও হরলিক্সের প্রস্তুতকারক গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে), বাস্তবায়ন অংশীদার কেয়ার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের সাথে মিলিত হয়ে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অংশীদারি কার্যক্রম’ শীর্ষক একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জিএসকে ও অংশীদারদের কার্যক্রমের সাফল্য উদযাপন করা হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য ২০১২ সাল থেকে জিএসকে লাভের ২০% পুনরায় বিনিয়োগ করে থাকে। দেশের বিভিন্ন অংশে অংশীদারত্বের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত পান্ডে, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের কান্ট্রি ম্যানেজার স্বপ্না ভৌমিক, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী এবং কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. সাইদ মোদাসসের আলীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত পান্ডে বলেন, জিএসকেতে আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিতে অংশীদার হতে পেরে এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ৩০০টি দক্ষ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা (এসএইচইএস) এবং ৩,০০০ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া উখিয়ায় মায়ানমারের শরণার্থী ক্যাম্প পরিচালনা ও হেলথ অ্যাক্সেস অ্যান্ড লিংকেজ অপারচুনিটিস ফর ওয়ার্কারস প্লাস (এইচএএলওডব্লিউ+) এর মাধ্যমে আরএমজি কর্মীদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. সাইদ মোদাসসের আলী বলেন, সুনামগঞ্জে প্রত্যন্ত হাওরে জিএসকে-কেয়ার কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার্স উদ্যোগের দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০০ দক্ষ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তারা সরকারের স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে কাজে লাগছে করছে এবং এর মাধ্যমে এসডিজি অর্জনে সরকারকে সহায়তা করছে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা হিসাবে জিএসকে সবসময় তাদের উন্নতমানের পণ্যগুলির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশের বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, জিএসকে এবং এমঅ্যান্ডএস এর মতো বৃটিশ সংস্থাগুলি তাদের আকর্ষণীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটিগুলোয় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এসে দায়িত্ববান ও কল্যাণমূলক কোম্পানি হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে জিএসকে-এর উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলির মাধ্যমে তা সমর্থন করার এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্থানীয় লোকজনকেই সেবা দেয়নি বরং মায়ানমারের শরণার্থী ক্যাম্পের আরএমজি নারী, পুরুষ, শিশু ও অন্যান্য কর্মীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে।

কেয়ার বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী বলেন, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন এর সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার ইনিশিয়েটিভ এর মাধ্যমে শহুরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক ফলাফল সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে হেলথ সিকিং বিহেভিয়ারস ও সেবা গ্রহণ উভয় ক্ষেত্রেই আমরা কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি। আমরা এই উদ্যোগটির জন্য সত্যিই গর্বিত।

বিজিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক বলেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উন্নত করতে আমাদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শ্রমিকদের প্রতি নজর দিতে হবে। এই কাজটিই জিএসকে ও কেয়ার করছে, যেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ব্যক্তিগত ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য উন্নত করতে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের সক্ষম করে তুলতে এইচএএলওডব্লিউ প্লাস কার্যক্রম চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের মিডলাইন মূল্যায়ন থেকে ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার সামর্থ্য বাড়াতে জিএসকে এবং কেয়ার যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জটিল মাতৃত্ব এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে। সেবা ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য যোগাযোগের মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। দ্বিতীয় ধাপে, ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যক্রম চালু করা হয় এবং শরণার্থী ক্যাম্পে গর্ভবতী মাদের সহযোগিতা করার জন্য ২০ জনেরও বেশি ধাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা