kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

বাড়তি চাপ সঞ্চয়পত্রের সুদে উৎসে কর

এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জুলাই, ২০১৯ ০৯:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়তি চাপ সঞ্চয়পত্রের সুদে উৎসে কর

২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটেও মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপেক্ষিত থেকে গেল। বাজেটের কর কাঠামো নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর নানাভাবে চাপ বাড়াবে। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর সমাজের মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আয়ের ওপর আঘাত করবে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা।

গতকাল রবিবার সংসদে পাস হওয়া বাজেটে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

বাজেটে সাধারণ মানুষের যেসব দাবি-দাওয়ার কথা উঠে এসেছে চূড়ান্ত বাজেটে তার কিছুটা প্রতিফলন থাকা দরকার ছিল। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের যে লক্ষ্যমাত্রা, বাজেটে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।    

সঞ্চয়পত্র এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন আদৌ কতটা প্রয়োজন আছে তা ভেবে দেখা দরকার ছিল। কারণ টিআইএন সবার থাকে না। বিত্তবান ও মধ্যবিত্তদের থাকে, গরিবদের থাকে না। এখন অনেক গরিব মানুষও বিদ্যুতের আওতায় আসছে। টিআইএন থাকলেই একটি ন্যূনতম আয়কর দেওয়া লাগে। তারা আয়করের আওতায় আসার সক্ষমতা রাখে না। এটা যথাযথ বাস্তবায়ন হবে বলে আমি মনে করি না। এটা উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে।

বাজেটে মোবাইলফোনসহ ডিজিটাল সেবায় যেসব করারোপ করা হয়েছে তাতে শুধু মধ্যবিত্তেরই নয়, নিম্নবিত্তের ওপরও চাপ বাড়বে। এখন গৃহকর্মীরাও মোবাইলফোন ব্যবহার করে। তাদের ওপরও সারচার্জ বসানো কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা দরকার ছিল।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি নানা মহল থেকে এসেছিল। কিন্তু তা অপরিবর্তিত থেকে গেল। মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও বাড়িভাড়া, পরিবহন ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির পরিমাণ আগের মতোই রাখা হয়েছে। খরচ বেড়ে গেলেও কর ছাড়ের হার একই থাকার কারণে দিন শেষে করদাতাদের উচ্চহারে কর পরিশোধ করতে হবে।

বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে বড় লক্ষ্য ধরা হয়েছে তা আদায় করা খুবই কঠিন হবে। একই সঙ্গে সক্ষমতায় ঘাটতি থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন করাও কঠিন হবে। রাজস্ব আহরণের মূল উপায় হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্যাক্স রেভিনিউ। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাজি ধরে বলতে পারি এটা অর্জন সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের ২২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। কোনো কোনো জেলায় এই হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। দারিদ্র্যসীমার হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাজেটে কোনো আভাস নেই।

বাজেটে রাজস্বের বাড়তি যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তার বেশির ভাগ আসবে প্রত্যক্ষ কর থেকে। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা তুলনামূলক বেশি পড়বে।

সরকারের উচিত ছিল করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, করপোরেট করহার কমানো, গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে সুবিধা দেওয়া, দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা আরো বাড়ানো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা