kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বন্ডের অপব্যবহার রোধের জোর দাবি

সায়েম টিপু    

১ জুলাই, ২০১৯ ০৮:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ডের অপব্যবহার রোধের জোর দাবি

দেশে ৮০ শতাংশের বেশি রপ্তানি আয় আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পের আরো প্রসারে সরকার এ খাতকে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দিয়ে আসছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল সরাসরি খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে দেশীয় শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি করে চলেছে।

এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সোচ্চার হওয়ায় এবং গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ায়  সরকার এই দুর্নীতি বন্ধে তৎপর হয়ে উঠেছে। গত পরশু জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

তৈরি পোশাক খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের বেশির ভাগই কাপড়, সুতা, কাগজ, ও প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে হ্যাঙ্গার, পলিথিন, শার্টের কলার, শক্ত কাগজ আর্ট কার্ড, ডুপ্লেক্স বোর্ড, মিডিয়াম পেপার, লাইনার পেপার। এ ছাড়া পলিপ্রোপাইলিন (পিপি), অ্যাডহেসিভ টেপ, প্লাস্টিক দানাও রয়েছে। বিনা শুল্কে আসা এসব পণ্য দেশীয় পণ্যের চেয়ে কম দামে বাজারে ছেড়ে দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের বস্ত্র খাত, কাগজ ও পাস্টিক শিল্পসহ আরো কিছু শিল্প খাত।

বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার ৫০০ বস্ত্র মিল আছে। এর মধ্যে সুতা তৈরি করে ৪৫০টি স্পিনিং মিল, কাপড় তৈরি করে ৮০০টি উইভিং মিল এবং ডায়িং ও প্রিন্টিং করে এমন কারখানা আছে ২৫০টি। নিট কাপড়ে বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ স্বনির্ভর। এ ছাড়া পোশাক খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ কাপড়ের সরবরাহ করে খাতটি। দেশে বেশ কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির কম্পোজিট কারখানাও আছে, যেখানে তুলা থেকে শুরু করে পোশাক তৈরি পর্যন্ত সব কাজই সম্পন্ন হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে এই শিল্প আজ হুমকির মুখে।

বিটিএমইএ সভাপতি মো. আলী খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ফলে সরকার বছরে তিন বিলিয়ন ডলারের ৩৭ শতাংশ রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় শিল্প। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাংকগুলো। তবে তিনি মনে করেন, সরকার ও এনবিআরের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় লোকবল এবং অবকাঠামো সুবিধার অভাবে এই অপব্যবহার প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।  

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি  মো. জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ড সুবিধা নিতে হলে বিপিজিএমইএর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান কোনো রকম অনুমোদন না নিয়েই বন্ডের আওতায় পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে ছেড়ে দেয়। এ রকম কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর জন্য দেশের প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ জসিম উদ্দিন ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব নওশেরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশীয় কাগজশিল্পের সক্ষমতা থাকার পরও অসাধু বন্ড ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে খোলাবাজারে কম দামে পণ্য বিক্রি করে দেশীয় শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এভাবে লোকসান গুনে দেশি কাগজশিল্পের টিকে থাকা সম্ভব নয়। অথচ আমদানীকৃত কাগজ জাতীয় পণ্যের সবটাই সরবরাহ করতে সক্ষম স্থানীয় কাগজকলগুলো।

জানতে চাইলে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড অপব্যবহারের ব্যাপারে বিজিএমএইর প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। যদি আমাদের কোনো সদস্য এই কাজে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। আমরা এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের সহযোগিতা চেয়েছি। এনবিআর চেয়ারম্যান ১০০টি প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন। সেই তালিকা আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিজিএমইএ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

প্রসঙ্গত, এবারের বাজেটে বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা সমজাতীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক হার কমানো হয়েছে। এতে আজ ১ জুলাই থেকে বন্ড সুবিধার বাইরের আমদানিকাররাও কম শুল্কে একই জাতীয় পণ্য আনার সুযোগ পাবে। এতে বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য এবং বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা পণ্যের দামের পার্থক্য কমে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা