kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

পুঁজিবাজারে শুল্ক পুনর্বিন্যাস বিশেষ সুবিধা

সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বহাল রেখেই সংসদে অর্থ বিল পাস

বন্ডের অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ জুন, ২০১৯ ০৯:২৫ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বহাল রেখেই সংসদে অর্থ বিল পাস

পুঁজিবাজারে বিশেষ সুবিধা ও ভ্যাটে কিছুটা সংশোধন এনে গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ‘অর্থ বিল-২০১৯’ পাস হয়েছে। অর্থ বিলে দেশি শিল্প রক্ষায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সঞ্চয়পত্রে আরোপিত ১০ শতাংশ উৎসে কর ও বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে। তবে দেশীয় কাগজ শিল্প রক্ষায় বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে দেশে উৎপন্ন হয় না এমন কাগজের শুল্কহার চূড়ান্ত বাজেটে যৌক্তিক করা হবে।

বাজেট আলোচনার সমাপনী টানতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে যোগ দিলেও অসুস্থতার কারণে তাঁর অনুরোধে ‘অর্থ বিল-২০১৯’ সংসদে উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থ বিল উত্থাপনের পর বিরোধী দলের সাতজন সদস্য বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। তবে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। নাকচ হওয়ার আগে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলোর ওপর বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশীদ, বেগম রওশন আরা মান্নান ও ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এবং বিএনপির রুমিন ফারহানা ও গণফোরামের মুকাব্বির খান।

সংসদে বিল পাসের প্রস্তাব উত্থাপন না করলেও বাজেট আলোচনার সমাপ্তি টানতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে সমৃদ্ধিশালী হচ্ছে, আমরা আশা করছি আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ আর কারো কাছ থেকে ঋণ নেবে না, ঋণ দেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত ১০ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যেখানে নিয়ে গেছেন, সেখান থেকে বাংলাদেশকে আর কেউ পেছাতে পারবে না। আমরা এখন কেবল এগিয়েই যাব। আমাদের বিদেশি ঋণ জিডিপির ৫ শতাংশ। উন্নয়নশীল অনেক দেশের ঋণই তাদের জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি। জিডিপি অনুপাতে সবচেয়ে কম ঋণ নিয়ে বিশ্বে আমরা এক ইউনিক দেশে পরিণত হয়েছি।’

অর্থ বিল পাসের আগে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কম্পানি যে পরিমাণ স্টক ডিভিডেন্ড দেবে, একই পরিমাণ নগদ ডিভিডেন্ড দেবে। স্টক ডিভিডেন্ড যদি নগদ ডিভিডেন্ডের চেয়ে বেশি দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে সব স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছিল। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে কোনো কম্পানির কর-পরবর্তী নিট লাভের ৭০ শতাংশ রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভসহ বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করতে পারবে। বাকি ৩০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ও নগদ লভাংশ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে প্রতিবছর রিটেইন আর্নিংস ও রিজার্ভসহ স্থানান্তরিত মোট অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক মূসক হার প্রচলন করা হচ্ছে। তবে ১৫ শতাংশের নিচের হারগুলোতে উপকরণ কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যবসায়ীরা হ্রাসকৃত হারের পরিবর্তে উপকরণ কর গ্রহণ করে ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানে সুযোগ সৃষ্টির জন্য দাবি করেছেন। হ্রাসকৃত হারের পাশাপাশি কেউ চাইলে যেন ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে রেয়াত পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে নতুন আইনে সে বিধান আনা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁতশিল্পের ওপর ৫ শতাংশ মূসকের পরিবর্তে সুতায় প্রতি কেজিতে চার টাকা হারে সুনির্দিষ্ট হারে মূসক আরোপ করা হবে। দেশি শিল্প রক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের কাগজ ও গ্যাস উৎপাদনকারী শিল্প যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দেশীয় মুদ্রণশিল্পে প্রণোদনা ও বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতে দেশে উৎপাদন হয় না, এমন পেপারমিলের শুল্ক হার যৌক্তিক করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানীকৃত কিছু পণ্যের শুল্ক হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে অর্থ বিলের ওপর বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। এর মধ্য থেকে বেশ কিছু সংশোধনী প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন। সংশোধনীগুলো নিষ্পত্তি শেষে প্রধানমন্ত্রী অর্থ বিল-২০১৯ পাসের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। উপস্থিত সদস্যদের কণ্ঠভোটে রাত সাড়ে ৮টায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য আর্থিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে পাস হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে চাই। এ জন্যই সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা মিলে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংশোধনী আনা হয়েছে।’

এর আগে বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটটি শুধু একটি বছরের জন্য নয়, এটিকে ফাউন্ডেশন বলা যায়। কিন্তু এই বাজট থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত অর্জন করতে পারব। সেভাবে আমরা বাজেটটি প্রণয়ন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, ২০২৪ সালে আমরা ডাবল ডিজিট গ্রোথে পা রাখব। ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বাজেটের ফলাফল পাব।’ তিনি বলেন, “আমরা আমাদের এই বাজেটে টাইটেল রেখেছি ‘সময় এবার আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’।”

অর্থমন্ত্রী মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চীনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা কী দেখতে পাই? আমরা যদি মালয়েশিয়ার দিকে তাকাই—৩০ বছরের মধ্যে মালয়েশিয়া চলে গেছে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে, কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। চীনের অবস্থা কী ছিল? চীন সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ছিল। চীনে কোনো খাবার ছিল না। অথচ সে-ই আজকে পৃথিবীর এক নম্বর দেশ। আমরা গত দশ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিরলস পরিশ্রম করে সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছি। ট্রেন একবার যখন ট্র্যাকের ওপর উঠে যায় তখন আর তা পেছনের দিকে যায় না। কেউ আমাদেরকে এখান থেকে গতিচ্যুত করতে পারবে না।’

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা সুইস ব্যাংকে : ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে মনোনয়ন বাণিজ্যটা করেছে, সেই টাকাগুলো কোথায় রেখেছে খোঁজ নিলেই সুইস ব্যাংকের হিসাবটা মিলে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘অর্থ বিল-২০১৯’ পাসের প্রস্তাবের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুইস ব্যাংকের টাকা কাদের, তালিকায় কাদের নাম এসেছে, উনি যেন একটু ভালো করে দেখেন। যাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকেন, যাদের কথা এত বেশি বলেন, তাদের কথাটিই বেশি এসেছে। এমনও তথ্য এসেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা ৩০০ সিটে ৬৯২ জন মনোনয়ন দিল, একটি আসনের বিপরীতে তিনজনের অধিক বা দুজনের অধিক মনোনয়ন দিয়ে যে বাণিজ্যটা করা হলো, মনোনয়ন বাণিজ্যের সেই টাকাগুলো তারা (বিএনপি) কোথায় রাখল? এই খোঁজটা করলেই সুইস ব্যাংকের হিসাবটা পেয়ে যাবেন।’

লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিদেশ বসে নানা রকম চক্রান্ত করছে। তাদের চক্রান্ত থেকে দেশটা রক্ষা করব কিভাবে? যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে, যারা মানি লন্ডারিং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, যারা ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, এদের (তারেক রহমান) ব্যাপারে আরো কী করা যায় সেটাই আমাদের ভাবতে হবে।’ খেলাপি ঋণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের ক্ষোভের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খেলাপি ঋণের সংস্কৃতিটা কখন এসেছে? যখন থেকে এই দেশে সামরিক শাসন এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেনারেল জিয়া যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তখন থেকেই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে বের করে আনা অত্যন্ত কষ্টকর।’ কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় মানুষের অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ আসে। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত অর্থটা কোনো কাজে লাগানো যায় না। তাদের যদি একটা সুযোগ দেওয়া হয়, যেন এই টাকাটা মূল ধারায় চলে আসে এবং সেটা জনগণের কাজে দেবে। কোথায় গুঁজে রাখবে বা বিদেশে পাচার করছে, সেটাও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সে জন্য সুযোগটা দেওয়া হচ্ছে। তবে যদি দেখি সেখানে দুর্নীতি বাড়ছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং সেটার সুযোগ আছে।’

বন্ড দুর্নীতিরোধে ব্যবস্থা  : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে দেশে উৎপন্ন হয় না এমন কাগজের শুল্কহার চূড়ান্ত বাজেটে যৌক্তিক করা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস শতভাগ অটোমেশন করার মাধ্যমে অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব। শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল বন্ড সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে আমদানির সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল হিসেবে ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট পেপার, আর্ট কার্ড, সুইডিশ বোর্ড, ফোল্ডিং বক্স বোর্ড এবং সেলফ অ্যাডহেসিভ পেপার আমদানি করে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়ী নামধারী কিছু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্যে বন্ডের আওতায় এসব কাঁচামাল আমদানি করে কম দামে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে দেশি কাগজশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা আমদানিকারকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের বাজেটে বন্ড সুবিধা বহাল রাখলেও বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা সমজাতীয় পণ্য আমদানিতে শুল্কহার কমানো হয়েছে। এতে ১ জুলাই থেকে বন্ড সুবিধার বাইরের আমদানিকাররাও কম শুল্কে একই জাতীয় পণ্য আনার সুযোগ পাবে। এতে বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য ও বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা পণ্যের দামের পার্থক্য কমে যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের বাজেটে বন্ড সুবিধায় আমদানীকৃত পণ্য এবং বন্ড সুবিধার বাইরে থাকা ব্যবসায়ীদের একই জাতীয় পণ্য আমদানিতে শুল্কহার কাছাকাছি আনা হলো। এতে বন্ডে আনা পণ্যের সঙ্গে একই জাতীয় পণ্যের দামের খুব একটা পার্থক্য থাকবে না। ফলে বন্ডে বিনা শুল্কে আনা পণ্য দুর্নীতি করে খোলাবাজারে বিক্রি করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা খুব একটা লাভ করতে পারবে না। এতে বন্ড দুর্নীতি কমবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রে বন্ড দুর্নীতির কথা লেখালেখি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সচেতন হচ্ছে। সরকার থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা