kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বন্ড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি, হাতেনাতে ধরা তিন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ জুন, ২০১৯ ০৮:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি, হাতেনাতে ধরা তিন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর ভূমিকা নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। ধারাবাহিক অভিযানে গত দুই দিনে তিনটি কারখানার বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ হাতেনাতে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারখানা তিনটি হলো চট্টগ্রাম ইপিজেডের তাঁবু নির্মাণকারী কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এইচ কে ডি ইন্টারন্যাশনাল, পাহাড়তলী ডি টি মার্কেটের সুফি অ্যাপারেলস এবং দক্ষিণ পতেঙ্গার আবেদিন অ্যান্ড সন্স।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনার মোহাম্মদ আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে থেকেই আমরা অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেয়ে নতুন কৌশলে কাজ শুরু করেছি। অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডের নামকরা তাঁবু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এইচ কে ডি ইন্টারন্যাশনালে উপকমিশনারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের সন্ধান পায় বন্ড কমিশনারেট দল। গুদামের খাতায় আমদানীকৃত ২০ হাজার ২৬ কেজি ইলাস্টিক কর্ড, ড্রইস্টিং অ্যান্ড নন-ইলাস্টিক টেপ কাঁচামালের কথা লিপিবদ্ধ ছিল। কিন্তু বাস্তবে কারখানায় এসবের অস্তিত্ব মেলেনি। এভাবেই আমদানীকৃত কাঁচামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ায় প্রমাণ মেলে। আর এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে মামলা করা হয়েছে। অনিয়মের মাধ্যমে এইচ কেডি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এদিকে গত ২৩ জুন চট্টগ্রাম পাহাড়তলী ডিটি রোডের সুফি অ্যাপারেলস

লিমিটেড থেকে বন্ড সুবিধায় আনা বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। মাঝপথে চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড়ে ট্রাকসহ চালানটি হাতেনাতে আটক করে বন্ড কাস্টমসের দল। আটকের পর চালক স্বীকার করে হাটহাজারীতে অবস্থিত নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠান জি অ্যাপারেলসে পণ্যগুলো যাচ্ছিল। সাড়ে সাত লাখ টাকার শুল্ককরসহ ওই চালানের মালপত্রের মূল্য ছিল ১৪ লাখ টাকার মতো। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি ছাড়াও ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পরিশোধসহ অনিয়মের কারণে গত ২৪ জুন মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া আবেদিন অ্যান্ড সন্স বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল পণ্য পিপি, এলডিপিই ও এইচডিপিই কারখানায় ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। মাঝপথে ওই ট্রাক আটক করে বন্ড কমিশনারেট। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আট লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং অনিয়মের বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ এবং মামলা করা হয়।

উল্লেখ্য, সরকার দেশীয় শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থান বাড়াবে এই আশায় শুল্ক মুক্ত, অর্থাৎ বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির সুবিধা দিয়ে আসছে। নিয়ম হচ্ছে বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল এনে তা দিয়ে কারখানায় পণ্য তৈরি করে তা শতভাগ বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্ত পণ্য এনে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে লাভবান হচ্ছে। আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল শুল্ক আয় থেকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও ধারাবাহিকতা না থাকায় খুব বেশি সুফল মেলেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা