kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

ব্যবসা সূচকে ৫০তম হতে চায় বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ জুন, ২০১৯ ১১:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যবসা সূচকে ৫০তম হতে চায় বাংলাদেশ

গতকাল জাতিসংঘের বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমানসহ অন্যরা

আগামী দুই বছর বা ২৪ মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সূচকে ৫০তম অবস্থানে আসতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭৬তম। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। ব্যবসা সূচকে ৫০তম অবস্থানে আসতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর উন্নয়নও হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কম্পানির রিটেইনড আর্নিংস বা অবণ্টিত মুনাফার ওপর কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার হতে পারে বলে আভাস দেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যেহেতু ওই টাকার জন্য আগেই কর দেওয়া হয়েছে, তাই এটা দ্বৈত করই হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতিসংঘের বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ অন্যরা।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আফগানিস্তানের চেয়ে আমরা খারাপ অবস্থানে থাকতে পারি না। আমরা আগামী এক বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সূচকে তিন ডিজিট থেকে ডাবল ডিজিটে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া আগামী ২৪ মাসের মধ্যে ৫০তম অবস্থানে আসতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি এখন অনেকটা পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। আশা করছি বেশি দিন আমাদেরকে এক খাতের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। অন্য অনেক খাত এগিয়ে আসছে।’ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমন্বিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই কর ও ভ্যাটের আদায়ের হারও বাড়বে। আমাদের দিন দিন বিনিয়োগ বাড়ছে। সামনের দিনে তা আরো বাড়বে।’ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।

পবন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালে বৈশ্বিকভাবে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। এর মানে আমাদের এখানে ব্যবসা করার অফুরন্ত সুযোগ ও পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের এখন রাজস্ব আদায় করতে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তাই ভ্যাট ও আয়করের ওপর জোর দেওয়া দরকার।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৩৬০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। এক বছরে কেন এত বিনিয়োগ এলো এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিনিয়োগে নানা ধরনের সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হয়। বিনিয়োগ পরিবেশও ভালো।’

বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘রিটেইনড আর্নিংসের বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয় বাজেট যখন পাস হবে, তখন আর এটা সেখানে থাকবে না।’ অবণ্টিত মুনাফার ওপর কর আরোপের প্রস্তাব বাতিল করতে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে সালমান এফ রহমান এই ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, কোনো আয় বছরে কোনো কম্পানির রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে বাড়তি অংশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে। ব্যবসা থেকে পাওয়া মুনাফার যে অংশ কম্পানি শেয়ারধারীদের মধ্যে বণ্টন না করে পুনর্বিনিয়োগের জন্য রেখে দেয়, সেটিই হলো রিটেইনড আর্নিংস বা অবণ্টিত মুনাফা। এই টাকা পরে কম্পানির ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও মূলধনী ব্যয় হিসেবে অথবা দেনা পরিশোধে ব্যয় হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা